ইসরাইলি অবরোধের কারণে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অপুষ্টি ও অনাহারে আরও ১০ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন শিশু। শনিবার (৩০ আগস্ট) ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানায়।
মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, নতুন মৃত্যুর ফলে গত ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় দুর্ভিক্ষে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩২ জনে। এর মধ্যে ১২৪ জনই শিশু। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরও জানায়, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টিগ্রেটেড ফুড সিকিউরিটি ফেজ ক্লাসিফিকেশন (আইপিসি) গাজা গভর্নরেটে দুর্ভিক্ষ নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটি আশঙ্কা করছে, সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এই সংকট দেইর আল-বালাহ এবং খান ইউনিস গভর্নরেটেও ছড়িয়ে পড়বে।
আইপিসির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কেবল দুর্ভিক্ষ ঘোষণার পর থেকেই গাজায় ৫৪ জন অনাহারে মারা গেছেন, যাদের মধ্যে নয়জন শিশু। সংস্থাটি জানায়, ২২ মাস ধরে চলমান সামরিক অভিযানে গাজার পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ সরাসরি অনাহার ও মৃত্যুঝুঁকির মুখে এবং আরও প্রায় এক কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার সংকটে পড়েছে।
অবিরাম সামরিক অভিযানে ইতিমধ্যে ৬৩ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় মানবিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। পাশাপাশি, গাজায় পরিচালিত অভিযানের কারণে ইসরাইল আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে গণহত্যার মামলার মুখোমুখি রয়েছে।