জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে এক উঠান বৈঠকে জানান, সাবেক ভিপি নুরুল হক নূরের ওপর সদ্য ঘটে যাওয়া হামলা একটি স্পষ্ট সতর্কবার্তা বয়ে নিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় ওপর নির্ভর করে চলতে থাকা নিয়মাবলী সংস্কারের প্রয়োজনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, অন্যথায় একই ধরণের দুর্বিপাক এনসিপির অপেক্ষা করবে। নিয়ম পরিবর্তনের জন্য ‘সংস্কার’ তাদের দাবির কেন্দ্রে রয়েছে, যা নির্বাচন, বিচার ও প্রসঙ্গে জরুরি উল্লেখযোগ্য বলে জানান তিনি।
বাজেটের সামনে ইশারা দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, তারেক জিয়ার মতো চাপিয়ে সরকার থেকে নির্বাসিত হওয়া কিংবা খালেদা জিয়ার সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোও তাদের দলের ভবিষ্যতের জন্য এই সংকেত দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি নিয়ম পরিবর্তন না করতে পারি, তাহলে আমাদেরও একই ফল ভোগ করতে হবে।’ তিনি এসব বক্তব্য শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে বিজয়নগরের ছতরপুর স্কুল মাঠে ‘উঠানে নতুন সংবিধান’ শীর্ষক বৈঠকে প্রদান করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নির্বাচন বর্জনকারী তকমা দেওয়া হচ্ছে, অথচ বিএনপি নির্বাচন নিয়ে কথা বলছে। আমরা নির্বাচন চাই, অথচ তার সঙ্গে সাথে বিচার ও সংস্কারের দাবি আমরা উত্থাপন করছি। পুলিশ প্রশাসনের আচরণ তো ফয়সালা হয়নি — অবৈধ আটক এবং পরিবারের অবগতি না দেওয়া চলবে না।’ হাসনাত আরও উল্লেখ করেন, ‘ধানের শীষ যদি না থাকে, আমরা প্রয়োজনে ব্যালট ছাপাবো— এটি ব্যক্তিগত নয়, রাজনীতির মানসিকতাজনিত ব্যাপার’।
জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতারা সুশাসনের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার তথা সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর আহ্বান জানান। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব এস. এম. সাইফ মোস্তাফিজ, ডা. মাহমুদা মিতা, যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ এবং বিজয়নগর উপজেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল হক চৌধুরী প্রমুখ।
এই বৈঠকের মাধ্যমে এনসিপি নতুন সংবিধান প্রণয়ন, বিচার ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও নির্বাচন প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি আরও জোরালো করেছে। নুরুল হকের ওপর হামলার ঘটনা বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে সুরক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বকেও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে, যা বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উন্নতির জন্য অপরিহার্য বলা হয়ে থাকে।
সকল পর্যায় থেকে রাজনৈতিক অংশীদারদের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এই ধরনের আলোচনার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।