ঢাকায় সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (SAHR) প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সাক্ষাৎ করেছে। এই বৈঠকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর, দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং তরুণদের ভূমিকাসহ বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছে। উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস তরুণদের ক্ষমতায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং দেশের উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন।
বৈঠকে SAHR প্রতিনিধি দল নেতৃত্বে ছিলেন সহ সভাপতি রোশমি গোস্বামী, পাকিস্তানের মানবাধিকার কর্মী সারূপ ইজাজ, শ্রীলঙ্কার দীক্ষ্যা ইলাঙ্গাসিংহে ও অনুষয়া কোল্লুরে, এবং বাংলাদেশের সায়েদ আহমেদ। তারা বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং দক্ষিণ এশিয়ার মানবাধিকার চ্যালেঞ্জ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং সরকারের উদ্যোগসমূহকে স্বাগত জানায়। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস বলেন, "যতোক্ষণ থেকে আমরা দায়িত্ব গ্রহণ করেছি, তরুণদের সব স্তরে অংশগ্রহণ বাড়ানোর জন্য কাজ করছি। সংস্কার কমিশনে তাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে এবং নীতি প্রণয়ন থেকে প্রশাসনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়েছে। যারা আগে অবজ্ঞা পেত এবং সেজন্য ভোগান্তির মুখে পড়ত, আজ তারা আন্দোলনের পরবর্তী যুগে দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছে।" তিনি তরুণদের সহায়তার জন্য অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপরও জোর দেন।
বৈঠকে বাংলাদেশের সরকারের চলমান সংস্কার উদ্যোগ এবং মানবাধিকার প্রতিশ্রুতিকে SAHR প্রতিনিধি দল সাধুবাদ জানায়। তারা গণতান্ত্রিক রূপান্তর সফল করতে সরকারের প্রচেষ্টাকেও প্রশংসা করে। বৈঠকে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, এবং সমাজকল্যাণ ও নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস. মুর্শিদ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সময়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তর ত্বরান্বিত হয়েছে এবং তরুণ সমাজ দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। SAHR-এর এই বৈঠক প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের মানবাধিকার ও তরুণ নেতৃত্বের গুরুত্ব জোরালো হচ্ছে।