থাইল্যান্ডে চলন্ত ট্রেনের ওপর ধসে পড়ল নির্মাণাধীন ক্রেন: নিহত ৩২, আশঙ্কাজনক ৭
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৫-০১-২০২৬ ১১:১৭:৪৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৫-০১-২০২৬ ১১:১৭:৪৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
থাইল্যান্ডের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনায় অন্তত ৩২ জন নিহত এবং ৬৬ জন আহত হয়েছেন। ব্যাংকক থেকে উবন রাচাথানিগামী একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের ওপর বিশালাকার নির্মাণাধীন ক্রেন ধসে পড়লে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটিতে প্রায় ১৭১ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের মধ্যে বড় একটি অংশ ছিল শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী। ক্রেনের আঘাতে ট্রেনের একাধিক বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পাশাপাশি অন্তত একটি কোচে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনাটি ঘটে চীন-সমর্থিত ৫.৪ বিলিয়ন ডলারের একটি উচ্চাভিলাষী ওভারহেড রেললাইন প্রকল্প চলাকালীন। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ক্রেনটি যখন একটি বিশাল কংক্রিট স্ল্যাব তুলছিল, তখন সেটি ভারসাম্য হারিয়ে ট্রেনের ওপর আছড়ে পড়ে। ট্রেনের কর্মী থিরাসাক ওয়ংসংনার্ন জানান, ক্রেনটি পড়ার প্রচণ্ড ধাক্কায় যাত্রীরা আসন থেকে ছিটকে পড়েন। প্রত্যক্ষদর্শী মালিওয়ান নাকথন জানান, মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ট্রেনটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। এই প্রকল্পের লাম তাকং–সিখিও অংশের নির্মাণকাজের দায়িত্বে রয়েছে ‘ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি’।
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুল এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, নির্মাণ কাজে নিরাপত্তা ধাপ এড়িয়ে যাওয়া বা নকশা লঙ্ঘনের কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে এবং এর জন্য দায়ীদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। এদিকে, নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ইতালিয়ান-থাই ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি ঘটনার দায় স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। থাই রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডে অবকাঠামো নির্মাণে নিরাপত্তা মানদণ্ডের শিথিলতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে। গত সাত বছরে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় ১৫০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০২৩ সালেও একটি ট্রেন দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছিল। এবারের এই ভয়াবহ ক্রেন ধসের ঘটনা দেশটির নির্মাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে পুনরায় বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।