ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ ডিসেম্বর, যখন ভূমধ্যসাগরে বিপদাপন্ন একটি নৌকা থেকে ৬১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করে মাল্টা কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ৫৯ জনই ছিলেন বাংলাদেশি এবং ২ জন মিসরের নাগরিক। সমুদ্র থেকে উদ্ধারের সময় দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল এবং পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। উদ্ধারের পর থেকেই তাদের আইনি মর্যাদা ও আশ্রয়ের বিষয়টি পর্যালোচনায় নেয় মাল্টা প্রশাসন। তবে আশ্রয় প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতায় না গিয়ে রেকর্ড সময়ে এই বিশাল সংখ্যক মানুষকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি ইউরোপের অভিবাসন নীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাল্টার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাইরন ক্যামিলেরি এই দ্রুত প্রত্যাবাসন সম্পর্কে বলেন, "প্রকৃত শরণার্থী হিসেবে যারা সুরক্ষার যোগ্য, আমরা অবশ্যই তাদের সহায়তা করব। তবে যারা আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার করে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করবে, তাদের দ্রুততম সময়ে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।" তিনি আরও জানান, এই কঠোর পদক্ষেপ মূলত মানবপাচারকারী চক্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা, যাতে সমুদ্রপথে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা নিরুৎসাহিত হয়।
এদিকে গ্রিসের এথেন্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি রাবেয়া বেগম জানিয়েছেন, এই প্রত্যাবর্তনটি কোনো জোরপূর্বক ‘ডিপোর্টেশন’ নয়, বরং এটি একটি ‘স্বেচ্ছা প্রত্যাবাসন’। ফেরত আসা অভিবাসীরা নিজেরাই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। মাল্টা সরকার এই প্রক্রিয়ায় তাদের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহযোগিতাও প্রদান করেছে। বিশেষ ফ্লাইটে ফিরে আসা ৪৪ জনের পাশাপাশি বাকি চারজনকেও মাল্টায় পৌঁছানোর কয়েক দিনের মাথায় দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইটিআইএএস (ETIAS) ও এআইডিএ (AIDA)-র তথ্যমতে, মাল্টা বর্তমানে অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবিলায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে মাল্টায় প্রবেশ করা অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রায় ৮১ শতাংশকেই দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসন করা হয়েছে। বর্তমানে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক মাল্টায় অবস্থান করছেন, যাদের আশ্রয়ের আবেদন বর্তমানে যাচাই-বাছাই পর্যায়ে রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট