রাজধানীর পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিভিন্ন দাবিতে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধের ফলে বুধবার ঢাকা হয়ে উঠেছিল এক স্থবির ও দুর্ভোগের নগরী। পৃথক পৃথক দাবিতে সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থী এবং তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে এলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে প্রধান সড়কগুলো। এর মধ্যে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা টেকনিক্যাল মোড়, মহাখালীর আমতলী, সায়েন্সল্যাব ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করেন। অন্যদিকে, সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানা হত্যার বিচারের দাবিতে তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট মোড় দখলে নিলে দীর্ঘস্থায়ী যানজটের সৃষ্টি হয়। এই গণঅবরোধে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা; এমনকি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলোকেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এই অবরোধের প্রভাবে মিরপুর সড়ক, গাবতলী, শাহবাগ, ধানমন্ডি এবং পুরান ঢাকার সব সংযোগ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সায়েন্সল্যাব এলাকায় ঢাকা কলেজ, ইডেন ও বদরুন্নেসা কলেজের শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেওয়ায় নিউমার্কেট থেকে কেনাকাটা করে ফেরা যাত্রীরা চরম বিপাকে পড়েন। অনেকে নিরুপায় হয়ে মালপত্র নিয়ে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন। টেকনিক্যাল মোড়ে অবরোধের কারণে গাবতলী টার্মিনাল অভিমুখী দূরপাল্লার বাসগুলো আটকা পড়ায় ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ যাত্রীরা। ট্রাফিক বিভাগ অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়, ফলে বিকেলের দিকে অফিস ছুটির সময় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
আন্দোলনকারীরা তাদের পরবর্তী কর্মসূচিও ঘোষণা করেছেন। বিকেলে অবরোধ তুলে নেওয়ার সময় সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার আবারও সায়েন্সল্যাব, তাঁতীবাজার ও টেকনিক্যাল মোড়ে অবরোধ পালন করবেন তারা। অন্যদিকে, তেজগাঁও কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের সহপাঠী হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তেজগাঁও থানা ঘেরাওয়ের ডাক দিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মতে, মেট্রো ব্যবহারকারীরা কিছুটা রক্ষা পেলেও পুরো রাজধানীর সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আজ ভেঙে পড়েছিল। প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র সামনের সড়কসহ রাজধানীর প্রায় প্রতিটি গলি আজ ছিল স্থবির।
ডেস্ক রিপোর্ট