কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে সরকার ৬০ হাজার চালককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে যাচ্ছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে নতুন চালকদের পাশাপাশি বিদ্যমান চালকদের উন্নত দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যাতে তারা দেশ ও বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য আরও উপযোগী হয়ে উঠতে পারেন।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। অনুমোদিত প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৩০ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা।
বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা জানান, দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান কৌশলের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় ৪০ হাজার নতুন চালককে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ এবং ২০ হাজার বিদ্যমান চালককে উন্নত দক্ষতা প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে চালকদের ভারী যান ও যন্ত্রপাতি পরিচালনায় দক্ষ করে তোলা হবে, যা বিদেশের শ্রমবাজারে তুলনামূলক বেশি চাহিদাসম্পন্ন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে অনেক চালক হালকা যান পরিচালনায় অভিজ্ঞ হলেও বিদেশে এসব দক্ষতার চাহিদা সীমিত। এ কারণে ক্রেন, এক্সকাভেটরসহ ভারী যন্ত্রপাতি ও হেভি ভেহিকেল চালনার প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তরা বিদেশে উচ্চ বেতনের কাজের সুযোগ পান।
এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)। নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে প্রশিক্ষণ, সনদ প্রদান ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ইস্যু করা হবে।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হবে। প্রকল্পের আওতায় নতুন চালকদের চার মাসে মোট ৮০ দিন প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান ২০ হাজার চালক পাঁচ দিনের উন্নত প্রশিক্ষণ পাবেন।
এ ছাড়া সব মিলিয়ে ৬০ হাজার চালকের চোখ পরীক্ষা করা হবে এবং এর মধ্যে ২০ হাজার চালককে প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা সরবরাহ করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৩ সালের এপ্রিলে অনুমোদিত হয় এবং এর মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারিত।
অর্থ উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, এই কর্মসূচির সঙ্গে কোনো নির্বাচন সংশ্লিষ্টতা নেই। এটি দেশের দীর্ঘমেয়াদি কর্মসংস্থান পরিকল্পনার অংশ, যা সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।
ডেস্ক রিপোর্ট