ময়মনসিংহ নগরে গ্রেপ্তারকৃত এক আসামিকে থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে র্যাব ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে নগরের দিগারকান্দা ফিশারি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। আহত পুলিশ সদস্যদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পলাতক আসামি আরিফুল ইসলাম ওই এলাকার সাগর আলীর ছেলে। ঘটনার পর আরিফুলের বাবা সাগর আলীকে আটক করা হয়েছে। এর আগে আরিফুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় এক ব্যক্তি রাসেলকে কুপিয়ে ও মারধর করার অভিযোগে মামলা দায়ের হয়। গুরুতর আহত রাসেল বর্তমানে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার বিকেলে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ আহমদের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি পুলিশ দল দিগারকান্দা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে। তাকে থানায় নেওয়ার সময় তার বাবা সাগর আলীর নেতৃত্বে কয়েকশ মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে আসামিকে হাতকড়াসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও তিনজন কনস্টেবল রয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ওসি নাজমুস সাকিব বলেন, পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তিনি আরও জানান, পলাতক আসামিসহ হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডেস্ক রিপোর্ট