বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও জুলাই-সংশ্লিষ্ট অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্দোলনের সময় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নিলে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা বা সহায়তা পাওয়ার সুযোগ তো থাকতই না, বরং তাদের অনেককেই আইনি জটিলতার মুখোমুখি হতে হতে পারত। সেই বাস্তবতা জেনেই আন্দোলনকারীরা রাজপথে নেমেছিলেন। তাই তাদের অবদান রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সহায়তার প্রত্যাশা নিয়ে কেউ আন্দোলনে অংশ নেননি। কিন্তু এ কারণে রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। যারা জীবন দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন এবং তাদের পরিবার—সবার প্রতি সরকারের দায়িত্ব রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জুলাই ফাউন্ডেশনের কর্মীদের কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ার বিষয়টিকে তিনি দুঃখজনক ও লজ্জাজনক বলে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় বেতন না পেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মীরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। তাদের এই আন্তরিকতার প্রশংসা করে সমস্যার দ্রুত সমাধানে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, সে সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাই মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়েই রাজপথে ছিলেন। রংপুরের আবু সাঈদের সাহসিকতার উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশে যেন আর কাউকে এভাবে জীবন বাজি রেখে আন্দোলনে নামতে না হয়। তার প্রত্যাশা, দেশে এমন পরিবেশ গড়ে উঠুক যেখানে গণঅভ্যুত্থান বা আন্দোলনে প্রাণহানির মতো পরিস্থিতি আর সৃষ্টি হবে না।
তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের উল্লেখযোগ্য অংশ ছিলেন শ্রমজীবী ও কায়িক শ্রমনির্ভর মানুষ। তাদের মৃত্যু শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং প্রতিটি পরিবারের জন্য গভীর সংকট ও অপূরণীয় শোক বয়ে এনেছে।
ডেস্ক রিপোর্ট