তালাকের অজুহাতে ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না: হাইকোর্ট
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০৮:৩০:১৮ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৬-০৭-২০২৬ ০৮:৩০:১৮ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২০২ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ মা-বাবার বৈবাহিক বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়; এটি শিশুর স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার।
সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি প্রকাশ্যে আসে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে বিয়ে হওয়ার পর স্ত্রী ও নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করা হয়। স্বামী দাবি করেন, তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তবে ফ্যামিলি কোর্টে সেই তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণ করতে না পারায় আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি দেন।
পরে স্বামী নতুন একটি ঘোষণামূলক মামলা করে তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি জানিয়ে ওই ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত আবেদন খারিজ করলে তিনি হাইকোর্টে যান।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, শুধু নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না। কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট তা বাস্তবায়নে বাধ্য।
আদালত আরও বলেন, আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় এমন তালাকের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই। তাই এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী বা সন্তানের ভরণপোষণ এবং দেনমোহরের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
রায়ে ফ্যামিলি কোর্টের একচ্ছত্র এখতিয়ারের বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও বৈবাহিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা শুধুমাত্র ফ্যামিলি কোর্টের।
নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ প্রসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এটি শিশুর স্বাধীন আইনগত অধিকার। মা-বাবার মধ্যে তালাক নিয়ে বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না এবং পিতা এ দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।
একই সঙ্গে আদালত বলেন, এক্সিকিউশন কোর্টের কাজ শুধু বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা। ডিক্রির বাইরে গিয়ে তালাক বৈধ কি না বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান কি না, সে বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, যদি পূর্বে দাবি করা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর হয় এবং স্বামী বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চান, তাহলে তিনি আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দিতে পারবেন। তবে এতে পূর্বের দেনমোহর ও ভরণপোষণের দায় থেকে মুক্তি মিলবে না।
হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া ও স্ত্রী-সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দেন।
আইনজীবীদের মতে, নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং পারিবারিক আদালতের চূড়ান্ত রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২
সম্প্রতি বিচারপতি আবদুর রহমানের একক বেঞ্চ এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি প্রকাশ্যে আসে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালে বিয়ে হওয়ার পর স্ত্রী ও নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের মামলা করা হয়। স্বামী দাবি করেন, তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তবে ফ্যামিলি কোর্টে সেই তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণ করতে না পারায় আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি দেন।
পরে স্বামী নতুন একটি ঘোষণামূলক মামলা করে তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি জানিয়ে ওই ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত আবেদন খারিজ করলে তিনি হাইকোর্টে যান।
রায়ে হাইকোর্ট বলেন, শুধু নতুন মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না। কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট তা বাস্তবায়নে বাধ্য।
আদালত আরও বলেন, আইন অনুযায়ী প্রমাণিত নয় এমন তালাকের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই। তাই এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী বা সন্তানের ভরণপোষণ এবং দেনমোহরের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
রায়ে ফ্যামিলি কোর্টের একচ্ছত্র এখতিয়ারের বিষয়টিও পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। আদালত বলেছেন, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও বৈবাহিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা শুধুমাত্র ফ্যামিলি কোর্টের।
নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ প্রসঙ্গে আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, এটি শিশুর স্বাধীন আইনগত অধিকার। মা-বাবার মধ্যে তালাক নিয়ে বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না এবং পিতা এ দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।
একই সঙ্গে আদালত বলেন, এক্সিকিউশন কোর্টের কাজ শুধু বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা। ডিক্রির বাইরে গিয়ে তালাক বৈধ কি না বা বৈবাহিক সম্পর্ক বিদ্যমান কি না, সে বিষয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।
রায়ে আরও উল্লেখ করা হয়, যদি পূর্বে দাবি করা তালাক আইনগতভাবে অকার্যকর হয় এবং স্বামী বৈবাহিক সম্পর্কের অবসান ঘটাতে চান, তাহলে তিনি আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দিতে পারবেন। তবে এতে পূর্বের দেনমোহর ও ভরণপোষণের দায় থেকে মুক্তি মিলবে না।
হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া ও স্ত্রী-সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দেন।
আইনজীবীদের মতে, নারী ও শিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং পারিবারিক আদালতের চূড়ান্ত রায়ের কার্যকারিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।