হিজামার ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতায় যেমন ইরান, মিশর, গ্রীস ও চীনে এই চিকিৎসা পদ্ধতি অনুশীলিত হয়েছে। বিশেষ করে ইবনে সিনার বিখ্যাত 'কানুন ফিল তিব্ব' এবং জাকারিয়া আল রাযির ‘আল-হাওয়ি’ চিকিৎসাবিদ্যার গ্রন্থে হিজামার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে এটি শরীর থেকে দূষিত রক্ত নিষ্কাশন এবং প্রদাহ হ্রাস করার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লিখিত। প্রাচীন মিশরের শিল্পকর্মেও হিজামা করানোর দৃশ্য পাওয়া যায়, যা এই পদ্ধতির প্রাচীনতা ও বিস্তারের প্রমাণ।
হিজামার তিন প্রধান ধরন রয়েছে— শুষ্ক, আর্দ্র ও গরম হিজামা। শুষ্ক হিজামায় কাপের ভিতরে ভ্যাকুয়াম তৈরি করে ত্বককে টেনে নেয়া হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। আর্দ্র হিজামায় একই প্রক্রিয়ার পর ত্বকে হালকা করে কাটা দিয়ে সামান্য পরিমাণ রক্ত বের করা হয়, যাতে শরীরের বিষাক্ততা দ্রুত কমে। গরম হিজামায় কাপের ভিতরের বাতাস আগুন দিয়ে গরম করে ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি করা হয় এবং তা শরীরে বসানো হয়, যা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির অংশ।
আধুনিক গবেষণা অনুসারে, হিজামা পেশী ব্যথা, জয়েন্টের সমস্যা যেমন আর্থ্রাইটিস, মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন উপশমে উপকারী হতে পারে। এছাড়া রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি ও ক্লান্তি দূর করতেও সাহায্য করে। বিশেষ করে ক্রীড়াবিদরা তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধারের জন্য এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে থাকেন। তবে, হিজামাকে আধুনিক চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পরিপূরক চিকিৎসা হিসাবে গ্রহণ করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে কার্যক্রম চালাতে হবে।
যদিও হিজামার উপকারিতা রয়েছে, এটি সবার জন্য নিরাপদ নয়। রক্ত জমাট বন্ধ হওয়ার রোগী, গর্ভবতী নারী, যাদের তীব্র রক্তাল্পতা আছে বা যারা সংক্রমিত চর্মরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য এই চিকিৎসা নিষেধ। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি এবং অভিজ্ঞ পেশাদার চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হিজামা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল পদ্ধতি বা পরিচ্ছন্নতা না থাকা সংক্রমণ ও অঙ্গবিকৃতির কারণ হতে পারে।
বর্তমান সময়েও হিজামা থেরাপির স্থান বিদ্যমান, বিশেষ করে দীর্ঘ ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবসময়ই আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ।