ঢাকা , মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (শরৎকাল) , ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
নতুন বেতন কাঠামোয় মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি রয়েছে: তথ্য উপদেষ্টা নবম পে স্কেলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরাও আসছেন নেপালে বন্যায় মৃত ৯৩৯, এক বাড়ি থেকেই উদ্ধার ২৩ লাশ ৪৫ বছর পর জিয়া হত্যার পুনঃতদন্তে নতুন সূত্র ইসলামকে ‘অন্য সব ধর্মের চেয়ে শ্রেষ্ঠ’ বলায় মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবী ইরানের পালটা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে যুদ্ধের শঙ্কা আদানির বিদ্যুৎ কমায় দেশজুড়ে লোডশেডিং তীব্র মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ ৭০০ মিলিয়নে স্থির শাহজালাল বিমানবন্দরে কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই ৩০ কোটি টাকার পণ্য উধাও দেশে শিশু নিখোঁজের ঘটনা উদ্বেগজনক: ৭ মাসে জিডি প্রায় ১৬ হাজার ২০২৮ সালে বড় সংস্কার, ২০২৭ থেকেই নতুন শিক্ষাক্রম তিব্বতে ভূমিধসে নতুন হ্রদ, ঝুঁকিতে গিরিওং বন্দর সেপ্টেম্বর থেকে ২ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক নেবে মালয়েশিয়া অটোরিকশাচালক থেকে কোটিপতি, বাগমারায় নানা অভিযোগ ফিরোজের নেপালে হিমবাহ ধসের বন্যায় প্রাণহানি বেড়ে ৬৩৩, তিব্বতে নিহত ৭ কক্সবাজারে বারে সংঘর্ষে যুবক নিহত, অভিযুক্তেরও মৃত্যু নেপালে সহায়তায় ৩১ মিলিয়ন ডলার চাইলো রেড ক্রস সৌদি আরবে অবৈধভাবে কাজ করলে ৫০ হাজার রিয়াল জরিমানা ও কারাদণ্ড তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর ও ঢাকা-দিল্লি কূটনৈতিক সমীকরণ নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮৯, নতুন ঝুঁকি

হিজামা থেরাপি: প্রাচীন চিকিৎসার আধুনিক পথে

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৮-০৮-২০২৫ ০১:২৬:৫০ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৮-০৮-২০২৫ ০১:২৬:৫০ অপরাহ্ন
  • ২ মিনিট পড়ার সময়
  • ৫৩ বার পঠিত
হিজামা থেরাপি: প্রাচীন চিকিৎসার আধুনিক পথে ছবি: সংগৃহীত
হিজামা বা কাপিং থেরাপি হচ্ছে একদীর্ঘসময় ধরে ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা পদ্ধতি, যা শরীর থেকে দূষিত রক্ত বা বিষাক্ত পদার্থ বের করে স্বাস্থ্য উন্নত করতে সহায়তা করে। ইবনে সিনা ও জাকারিয়া আল রাযির মতো প্রখ্যাত চিকিৎসকরা তাদের গ্রন্থে এই পদ্ধতির কার্যকারিতা তুলে ধরেছেন। আধুনিক চিকিৎসার পরিপূরক হিসেবে হিজামা আজও নানা ধরনের পেশীগত ব্যথা, রক্তসঞ্চালন উন্নয়ন ও অস্থিরতা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
 
হিজামার ইতিহাস হাজার বছরেরও বেশি পুরনো। বিভিন্ন প্রাচীন সভ্যতায় যেমন ইরান, মিশর, গ্রীস ও চীনে এই চিকিৎসা পদ্ধতি অনুশীলিত হয়েছে। বিশেষ করে ইবনে সিনার বিখ্যাত 'কানুন ফিল তিব্ব' এবং জাকারিয়া আল রাযির ‘আল-হাওয়ি’ চিকিৎসাবিদ্যার গ্রন্থে হিজামার উল্লেখ পাওয়া যায়, যেখানে এটি শরীর থেকে দূষিত রক্ত নিষ্কাশন এবং প্রদাহ হ্রাস করার একটি কার্যকর উপায় হিসেবে উল্লিখিত। প্রাচীন মিশরের শিল্পকর্মেও হিজামা করানোর দৃশ্য পাওয়া যায়, যা এই পদ্ধতির প্রাচীনতা ও বিস্তারের প্রমাণ।
 
হিজামার তিন প্রধান ধরন রয়েছে— শুষ্ক, আর্দ্র ও গরম হিজামা। শুষ্ক হিজামায় কাপের ভিতরে ভ্যাকুয়াম তৈরি করে ত্বককে টেনে নেয়া হয়, যা রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে। আর্দ্র হিজামায় একই প্রক্রিয়ার পর ত্বকে হালকা করে কাটা দিয়ে সামান্য পরিমাণ রক্ত বের করা হয়, যাতে শরীরের বিষাক্ততা দ্রুত কমে। গরম হিজামায় কাপের ভিতরের বাতাস আগুন দিয়ে গরম করে ভ্যাকুয়াম সৃষ্টি করা হয় এবং তা শরীরে বসানো হয়, যা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির অংশ।
 
আধুনিক গবেষণা অনুসারে, হিজামা পেশী ব্যথা, জয়েন্টের সমস্যা যেমন আর্থ্রাইটিস, মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন উপশমে উপকারী হতে পারে। এছাড়া রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি ও ক্লান্তি দূর করতেও সাহায্য করে। বিশেষ করে ক্রীড়াবিদরা তাৎক্ষণিক পুনরুদ্ধারের জন্য এই পদ্ধতিটি ব্যবহার করে থাকেন। তবে, হিজামাকে আধুনিক চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং পরিপূরক চিকিৎসা হিসাবে গ্রহণ করতে হবে এবং চিকিৎসকের পরামর্শে কার্যক্রম চালাতে হবে।
 
যদিও হিজামার উপকারিতা রয়েছে, এটি সবার জন্য নিরাপদ নয়। রক্ত জমাট বন্ধ হওয়ার রোগী, গর্ভবতী নারী, যাদের তীব্র রক্তাল্পতা আছে বা যারা সংক্রমিত চর্মরোগে ভুগছেন, তাদের জন্য এই চিকিৎসা নিষেধ। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি এবং অভিজ্ঞ পেশাদার চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে হিজামা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল পদ্ধতি বা পরিচ্ছন্নতা না থাকা সংক্রমণ ও অঙ্গবিকৃতির কারণ হতে পারে।
 
বর্তমান সময়েও হিজামা থেরাপির স্থান বিদ্যমান, বিশেষ করে দীর্ঘ ঐতিহ্য ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে এর গুরুত্ব অপরিসীম। তবে চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবসময়ই আধুনিক বিজ্ঞান ও চিকিৎসা পদ্ধতির সাথে সমন্বয় করা গুরুত্বপূর্ণ।

নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০২

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।