বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষণা করেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচন যথাসময়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—এই নির্বাচন বানচাল বা বিলম্বিত করার কোনো প্রচেষ্টা সফল হবে না। এ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, "ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে নির্বাচন হবেই, কোনো শক্তিই তা প্রতিহত করতে পারবে না।" সরকারের এই অবস্থানকে বিএনপিসহ বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল স্বাগত জানিয়েছে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচন ব্যাহত করার যে কোনো ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে এবং জনগণের ইচ্ছাই চূড়ান্তভাবে প্রতিফলিত হবে। গণতন্ত্রে রূপান্তর সফল করতে রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তির ঐক্য অপরিহার্য উল্লেখ করে সরকার সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুরের ওপর হামলারও নিন্দা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, "নির্বাচন ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের আগেই অনুষ্ঠিত হবে, কোনো ষড়যন্ত্রই একে থামাতে পারবে না।" এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ছাড়া সংকট সমাধানের আর কোনো বিকল্প নেই। জামায়াতের ড. হামিদুর রহমান আযাদ নির্বাচন জুলাই সনদ ও পিআর পদ্ধতির ভিত্তিতে আয়োজনের দাবি জানিয়ে বলেছেন, এই দাবি পূরণ না হলে আন্দোলনের পথে যাবে তাদের দল। অন্যদিকে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাইফুল হক নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষপাতদুষ্টতা কাটানোর আহ্বান জানান।
বিভিন্ন দল নির্বাচন নিয়ে আলাদা মতামত দিলেও অধিকাংশই সম্মত যে শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমেই স্থিতিশীলতা ফিরবে। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, নির্বাচনই চূড়ান্ত সমাধান, তবে তা হতে হবে সর্বজনগ্রহণযোগ্য।
এদিকে আজ রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকে বসবেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ, আসন সীমানা পুনর্নির্ধারণ, নতুন দল নিবন্ধন এবং নির্বাচনি সামগ্রী কেনাকাটার কাজ সেপ্টেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নির্বাচনের জন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে।