৮৫ বছর পর নতুন রূপে দাঁড়াল বসনিয়ার ঐতিহাসিক রাভনো মসজিদ
- আপলোড সময় : ২৯-০৮-২০২৫ ১০:৩৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-০৮-২০২৫ ১০:৩৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৮ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার কুপ্রেস পৌরসভার রাভনো গ্রামের মুসলিম সম্প্রদায়ের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ধ্বংস হওয়া ঐতিহাসিক রাভনো মসজিদ নতুনভাবে পুনর্নির্মিত হয়ে আবারও আকাশ ছুঁয়েছে। প্রায় ৮৫ বছর পর গ্রামবাসীর প্রার্থনার কেন্দ্র আবার জীবন্ত হয়ে উঠল।
১৭ শতকে খোদাই করা পাথরে নির্মিত এ মসজিদ একসময় শুধু উপাসনালয় ছিল না; বরং স্থানীয় মানুষের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হতো। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞে পাথরের গম্বুজ ভেঙে পড়ে, দেয়াল ধসে যায়, মিনার নিশ্চুপ হয়ে পড়ে যায়। দীর্ঘ আট দশক ধরে ধ্বংসস্তূপ গ্রামবাসীর বেদনার স্মারক হয়ে দাঁড়িয়ে ছিল।
২০২৪ সালের ১৭ মে স্থানীয় মুসলমানদের প্রচেষ্টায় মসজিদ পুনর্নির্মাণের উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর ১০ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় নতুন ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান। বসনিয়ার সরকারি প্রতিষ্ঠান, মন্ত্রণালয়, পৌরসভা, বেসরকারি সংস্থা ও দাতাদের পাশাপাশি ক্রোয়েশিয়া ও মন্টিনেগ্রোর মুসলিম সম্প্রদায়ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ফলে ধ্বংসস্তূপের জায়গায় গড়ে ওঠে নতুন মসজিদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন বসনিয়ার ইসলামিক কমিউনিটির চেয়ারম্যান ড. হুসেইন কাভাজোভিচ। অনুষ্ঠানে বহু বছরের আকাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্তে রাভনোর আকাশে আবারও ধ্বনিত হবে আজানের সুমধুর আহ্বান।
স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই পুনর্জাগরণ শুধু একটি উপাসনালয়ের নয়; বরং তা পুরো সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য, আস্থা ও ঐক্যের প্রতীক। ৮৫ বছরের নীরবতা ভেঙে আবারও প্রমাণিত হলো—ঈমানের আলো কখনো নিভে যায় না।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।