ডেইলি বিস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মালহোত্রা জানান, সিদ্ধান্তটি ধাপে ধাপে কার্যকর হতে পারে। তার দাবি, প্রশাসনের ভেতরে সাম্প্রতিক সময়ে “ভ্যাকসিন ইনজুরি” নিয়ে আলোচনার মাত্রা বেড়েছে, যা দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি করছে। এই বিষয়ে বর্তমানে পর্যালোচনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের Advisory Committee on Immunization Practices (ACIP)।
মালহোত্রার দাবি, ট্রাম্প পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যরাও কেনেডির অবস্থানকে সমর্থন করছেন, যদিও তাদের কারও বৈজ্ঞানিক যোগ্যতা নেই। তিনি আরও উল্লেখ করেন, কোভিড ভ্যাকসিন নিয়ে সংশয়ের অন্যতম কারণ ২০২২ সালের একটি গবেষণা। ওই গবেষণায় বলা হয়, ফাইজার ও মডার্নার mRNA ভ্যাকসিন গ্রহণকারীদের মধ্যে গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার হার প্লেসবো গ্রুপের তুলনায় ১৬ শতাংশ বেশি। তবে বিজ্ঞানী সমাজের বড় অংশ গবেষণাটিকে পদ্ধতিগত ত্রুটি ও পক্ষপাতদুষ্ট বিশ্লেষণের কারণে প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিতর্কের মধ্যেই কেনেডি সম্প্রতি mRNA ভ্যাকসিন উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ ৫০০ মিলিয়ন ডলারের তহবিল বাতিল করেছেন। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, এই ভ্যাকসিন বিপজ্জনক এবং মায়োকার্ডাইটিসসহ গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কেনেডির এ ধরনের বক্তব্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
সম্প্রতি CDC সদর দপ্তরে হামলার ঘটনায় একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। ধারণা করা হচ্ছে, হামলাকারী ভ্যাকসিনবিরোধী মনোভাব থেকেই এ ঘটনা ঘটায়। এর পর CDC, HHS ও NIH-এর ৭৫০ জনের বেশি বর্তমান ও সাবেক কর্মী কংগ্রেসে চিঠি পাঠিয়ে কেনেডির বিরুদ্ধে ভুল তথ্য ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি তৈরি করার অভিযোগ তুলেছেন। তারা তার কাছে বৈজ্ঞানিক সততা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, যে কোনো নীতিগত পরিবর্তন শুধুমাত্র প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমেই জানানো হবে। মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, “আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক নীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অনুমাননির্ভর আলোচনার কোনো ভিত্তি নেই।”