স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ধান বিজ্ঞানী ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, উদ্ভাবিত জলবায়ু-সহনশীল জাত চাষের ফলে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা আরও মজবুত হচ্ছে। তিনি জানান, যান্ত্রিকীকরণ, প্রমাণিত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, সুষম সার প্রয়োগ, উন্নত সেচ ব্যবস্থা ও সমন্বিত কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ কৃষি উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বর্তমানে বছরে ৩৯ মিলিয়নেরও বেশি মেট্রিক টন চাল (আউশ, আমন ও বোরো) উৎপাদন হচ্ছে, যা ১৬ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য জোগাতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। গবেষকরা আশা করছেন, সরকারিভাবে গৃহীত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে ২০৫০ সালের মধ্যে উৎপাদন প্রায় দেড়গুণ বৃদ্ধি সম্ভব হবে, যা ২২ কোটির জনসংখ্যার খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ড. মজিদ আরও বলেন, কৃষি খাতে টেকসই অগ্রগতি ধরে রাখতে হলে মানসম্পন্ন উচ্চ ফলনশীল বীজের প্রাপ্তি, কৃষকদের কাছে হাইব্রিড প্রযুক্তি পৌঁছে দেওয়া এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সর্বশেষ উদ্ভাবনগুলো মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে সম্পদ সংরক্ষণ, সমন্বিত কীটপতঙ্গ ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি বনায়ন দীর্ঘমেয়াদি টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে।
দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মো. মামুনুর রশিদ জানান, জলবায়ু-সহনশীল ধানের জাত যেমন খরা, বন্যা, লবণাক্ততা ও শীত সহ্য করতে সক্ষম, তেমনি ভিটামিন এ ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ জাতগুলো খাদ্য উৎপাদনের পাশাপাশি পুষ্টি ঘাটতি পূরণেও অবদান রাখছে।
অন্যদিকে রংপুর অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কৃষকরা এখন উন্নতমানের বীজ, আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশবান্ধব সার ব্যবহার করছেন। এর ফলে রংপুরসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও প্রতি বছর খাদ্যশস্য উৎপাদন বাড়ছে, যা টেকসই কৃষির জন্য ইতিবাচক সংকেত।