কবিতা রানী জানান, প্রতিদিন স্থানীয় খামার থেকে গোবর সংগ্রহ করে রিংয়ে মিশ্রণের মাধ্যমে কেঁচো সার তৈরি করা হয়। তার খামার থেকে মাসে প্রায় পাঁচ টন সার উৎপাদিত হচ্ছে, যা বিভিন্ন উপজেলার কৃষকেরা কিনে নিচ্ছেন। কৃষিতে এই সার ব্যবহার করে অধিক ফলন পাচ্ছেন কৃষকরা, ফলে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
তিনি বলেন, প্রথমদিকে কেঁচো হাতে নেওয়া ও এই কাজ করায় অনেকে তাকে উপহাস করলেও এখন তার সাফল্য দেখে এলাকায় আরও ১০ থেকে ১২টি পরিবার একই উদ্যোগে নাম লিখিয়েছে। তার স্বামী, ছেলে ও পুত্রবধূ মিলে পুরো পরিবারই এখন এই কাজে সম্পৃক্ত।
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, কবিতা রানীর তৈরি সার জমিতে ব্যবহার করলে ফসলের উৎপাদন বাড়ছে এবং এর মানও ভালো হচ্ছে। পাশের উপজেলা খানসামা, বীরগঞ্জ, চিরিরবন্দর ও বোচাগঞ্জ থেকেও কৃষকেরা তার খামার থেকে নিয়মিত সার সংগ্রহ করছেন।
কাহারোল উপজেলার কৃষি বিভাগ বলছে, কবিতা রানীকে শুরুতে রিং সরবরাহসহ নানা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এখনো তার খামারে নিয়মিত পরিদর্শন ও প্রযুক্তিগত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের কর্মকর্তারা তাকে সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং মাঠপর্যায়ে কৃষকদের কাছে তার উৎপাদিত সার ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কবিতা রানী মনে করেন, কৃষি বিভাগের আরও সহযোগিতা পেলে তার উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে, যা স্থানীয় কৃষিতে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সার ব্যবহারের প্রবণতা আরও বাড়িয়ে তুলবে।