জাতীয় বীজ বোর্ড সম্প্রতি এ জাতগুলোর অনুমোদন দিয়েছে। গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের পরীক্ষায় দেখা গেছে, নতুন ধানগুলো আগের জাতের তুলনায় বেশি ফলনশীল এবং দীর্ঘ সময় বন্যা ও লবণাক্ততা সহ্য করতে সক্ষম। উদাহরণস্বরূপ, জোয়ার-ভাটা অঞ্চলে বারি ধান-১০৯ প্রতি হেক্টরে গড়ে ৫.৪০ টন ফলন দিয়েছে, যা প্রচলিত জাতের তুলনায় প্রায় এক টন বেশি। অন্যদিকে বন্যা সহনশীল বারি ধান-১১০ আকস্মিক প্লাবনের মধ্যেও টিকে থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি ফলন দিয়েছে।
বর্তমানে দেশের প্রায় ০.৪৭ মিলিয়ন হেক্টর পতিত জমির ১৮–২০ শতাংশে প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল ধান আবাদ হচ্ছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, নতুন ছয়টি জাত চাষ শুরু হলে আরও ২০–২৫ শতাংশ পতিত জমি উৎপাদনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।
বারির মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান জানিয়েছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় এনে এসব জাত উদ্ভাবন করা হয়েছে। খরা, লবণাক্ততা ও হঠাৎ বন্যার মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এই ধানগুলো বড় ভূমিকা রাখবে। বারির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মোট ১২১টি ধানের জাত উদ্ভাবিত হয়েছে, যার মধ্যে আটটি উচ্চ ফলনশীল বা হাইব্রিড।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সাইফুল আলম মনে করেন, নতুন জাতগুলো পতিত জমি কাজে লাগিয়ে দেশের খাদ্য উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কৃষকেরাও এসব ধান চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।