মধ্যপ্রাচ্যে ফিলিস্তিনের গাজা ইস্যু ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাতের পর আবারও যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান। ইসরায়েলের সাবেক সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা কর্নেল (অব.) ড. জ্যাক নেরিয়া সতর্ক করে বলেছেন, ইরান সাম্প্রতিক হামলার প্রতিশোধ নিতে প্রস্তুত হচ্ছে এবং হিজবুল্লাহকে সরাসরি যুদ্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খবর জেরুজালেম পোস্টের।
নেরিয়া স্থানীয় এক রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের সম্প্রতি মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা আসন্ন সামরিক পদক্ষেপের স্পষ্ট ইঙ্গিত। তিনি বলেন, ইরান এই অপমান সহ্য করবে না, প্রতিশোধ আসন্ন। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব আহমেদ আল-শারাহ হিজবুল্লাহর অস্ত্র চালান আটকাচ্ছে এবং পুনর্গঠন ঠেকাচ্ছে, যা ইসরায়েলের প্রতি সদিচ্ছার প্রমাণ হতে পারে।
তার মতে, আসাদ শাসন পতনের পর হিজবুল্লাহর আঞ্চলিক প্রভাব ভেঙে পড়েছে এবং ইরান এখন সিরিয়ার নতুন সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে সিরিয়া সীমান্তে স্থিতিশীলতা চায়, যা তেহরানের কৌশলের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি রোববার তেহরানে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ইরান কখনোই যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মাথানত করবে না। তার দাবি, ওয়াশিংটনের উদ্দেশ্য হলো ইরানকে নিজেদের ইচ্ছামতো চালানো ও আনুগত্যে বাধ্য করা। ইরানের সেনাবাহিনীও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শত্রুরা আক্রমণ করলে কঠিন ও চূড়ান্ত জবাব দেওয়া হবে। সেনারা সর্বদা সরকারের পাশে থাকবে এবং ইসলামি বিপ্লবের আদর্শ রক্ষায় প্রতিরক্ষা শক্তি আরও বাড়াবে।
এছাড়া ইরান পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার জেনেভায় এ বৈঠক বসবে, যেখানে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি অংশ নেবে। এটি হবে গত জুনের ১২ দিনের যুদ্ধের পর দ্বিতীয় বৈঠক। প্রথম বৈঠকটি হয়েছিল ২৫ জুলাই ইস্তাম্বুলে।
গত জুনের যুদ্ধ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কয়েকটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায়, আর ইরানও পাল্টা ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এখনো অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।