ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রশ্নে ইসরায়েলের সঙ্গে টানাপোড়েন চলাকালেই অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন শহরে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। রবিবার (২৪ আগস্ট) সিডনি, ব্রিসবেন, মেলবোর্নসহ দেশজুড়ে অন্তত ৪০টিরও বেশি স্থানে এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। খবর রয়টার্স ও স্কাই নিউজ।
আয়োজক সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের দাবি, সারা অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার মানুষ এতে অংশ নেন। শুধু ব্রিসবেনেই অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ৫০ হাজারের বেশি ছিল বলে তারা উল্লেখ করেছে। তবে স্থানীয় পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ওই শহরে প্রায় ১০ হাজার মানুষ মিছিলে যোগ দেন। সিডনি ও মেলবোর্নের পুলিশ কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
সিডনির আয়োজক জশ লিস জানিয়েছেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ ও গণহত্যার অবসান দাবি এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানাতেই মানুষ প্রতিবাদে নেমেছে। বিক্ষোভকারীরা হাতে ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্টাইন’ স্লোগান দেন।
অন্যদিকে, অস্ট্রেলিয়ার ইহুদিদের সংগঠন এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ান জিউরির সহ-প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স রিভচিন বলেছেন, এসব বিক্ষোভ একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে এবং তা নিরুৎসাহিত করা উচিত। অস্ট্রেলিয়ায় বিক্ষোভ এমন এক সময়ে হলো যখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর মধ্যে প্রকাশ্য টানাপোড়েন চলছে। গত ১১ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার লেবার সরকার শর্তসাপেক্ষে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেয়, যা নিয়ে নেতানিয়াহু তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আলবানিজকে ব্যক্তিগত আক্রমণও করেছেন।
এর আগে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও কানাডা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছিল। ঘোষণার কয়েকদিন আগে হাজারো মানুষ সিডনির বিখ্যাত হারবার ব্রিজে গাজায় শান্তি ও মানবিক সহায়তার দাবিতে মিছিল করেছিলেন।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দুই বছর আগে হামাসের হামলার পর শুরু হওয়া ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত গাজায় ৬২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন সতর্ক করে বলছে, ইসরায়েলি অবরোধে ত্রাণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাদ্য ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে এবং সেখানে দুর্ভিক্ষের ঝুঁকি বাড়ছে।