রোববার (২ নভেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ব্র্যাক জানায়, সিলেটের এক ব্যক্তির মাধ্যমে জানা যায়— তার ভাইসহ তিনজনকে কানাডায় পাঠানোর কথা বলে নেপালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রতিশ্রুতি ছিল, কানাডায় পৌঁছানোর পরেই খরচ পরিশোধ করতে হবে। গত ১৩ অক্টোবর তারা নেপালে পৌঁছানোর পর চক্রটি তাদের পাসপোর্ট ও ফোন কেড়ে নেয় এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এরপর ভুয়া কানাডার ভিসা ও টিকিটসহ ছবি পাঠিয়ে পরিবারের কাছে দাবি জানানো হয় পাঁচ লাখ টাকা, পরবর্তীতে বাড়িয়ে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত।
পরিবারগুলো সন্দেহ প্রকাশ করলে জিম্মিদের ভয় দেখিয়ে কানাডায় পৌঁছানোর ভান করতে বাধ্য করা হয়। একজনের পরিবার বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে স্থানীয় দালালের কাছে গেলে বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়ে। পাচারকারীরা তখন নির্যাতনের মাত্রা বাড়িয়ে দ্রুত টাকা দিতে চাপ দিতে থাকে।
ব্র্যাক জানায়, ২৬ অক্টোবর পরিবারগুলো তাদের কাছে সাহায্য চায়। পরে সিআইডি ও নেপালের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ে অভিযান চালানো হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের হয় এবং সেদিন রাতেই এক দালাল গ্রেপ্তার হয়। খবর পেয়ে নেপালের পাচারকারীরা আতঙ্কে ওই রাতেই তিনজনকে কাঠমান্ডু বিমানবন্দরের পাশে ছেড়ে দেয়। পরে ৩০ অক্টোবর তারা ঢাকায় ফেরেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান বলেন, “নেপাল ভিসামুক্ত দেশ হওয়ায় পাচারকারীরা সহজেই মানুষ পাঠিয়ে প্রতারণা করছে। বিদেশে পাঠানোর নামে অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও নির্যাতনের এই ধারা এখন উদ্বেগজনক।”
তিনি জানান, কানাডা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া বা আমেরিকায় পাঠানোর প্রলোভনে অনেকেই এখনও প্রতারিত হচ্ছেন। বিদেশগামীদের এমন প্রলোভনে না পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “কোনো সন্দেহজনক প্রস্তাব পেলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করা জরুরি।”
ডেস্ক রিপোর্ট