আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ওই দিন আব্দুল কাদেরের একটি ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘ডাকসুতে ভোটার হইনি, তবে প্রার্থীর আধিক্য দেখে মনে হচ্ছে ভোটার হওয়া উচিত ছিল।’ পোস্টের শেষে তিনি ভিপি প্রার্থীকে ট্যাগ দিয়ে শুভকামনা জানিয়ে উপস্থাপন করেছিলেন নিজের সমর্থন। এই স্ট্যাটাসের স্ক্রিনশট দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখান থেকে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় উঠে।
গণঅধিকার পরিষদের গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ বলেন, “সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একজন উপদেষ্টা হিসেবে উনার এই স্পষ্ট পক্ষপাতিত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়ার ওপর প্রশ্ন তুলছে। এটি নির্দেশ দেয় সরকারের কোনো না কোনো প্রকার হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন অবস্থান সত্যিই উদ্বেগের।” তিনি আরো বলেন, “একজন উপদেষ্টা ঔপনিবেশিকভাবে স্থির থাকার কথা থাকলেও পোস্ট ডিলিট করা ‘বাকস্বাধীনতার’ স্বরূপ নয়।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেটিজেনদের শীর্ষ আলোচনায় আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার এ আচরণ নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এক নেটিজেন রবিউল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, “উনি হয়ত ভুলে গিয়েছিলেন নিজের দায়িত্ব ও পদটির গুরুত্ব। উপদেষ্টার মর্যাদা বজায় রেখে কোনো প্রার্থীর সরাসরি প্রচারণা করা ঠিক হয়নি। সমালোচনার মুখে পোস্ট ডিলিট করাই উনার প্রকৃত অবস্থান প্রকাশ করে।”
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের জন্য প্রার্থী তালিকা ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এবছর মোট ৪৭১ জন প্রার্থী পেলেন চূড়ান্ত মনোনয়ন, যার মধ্যে ভিপি পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা তেমনই প্রকট। বছরের পর বছর এই নির্বাচন কেন্দ্র করে ছাত্র রাজনীতি আকর্ষণীয় ও আন্তরিকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তবে নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়া বজায় রাখাই প্রত্যাশিত।
নির্বাচনকে ঘিরে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মনোভাব, স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা কোনো দিক থেকে ক্ষুণ্ণ না করার বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এমন ক্ষেত্রে উপদেষ্টার প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক, যা নীতি ও নেতৃত্বের ওপর আচরণ সংশ্লিষ্ট প্রত্যাশা প্রসঙ্গে মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়।