প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রি (NEIR) চালুর পর দেশের মোবাইল নেটওয়ার্কে লাখ লাখ ভুয়া ও ডুপ্লিকেট IMEI নম্বরযুক্ত ক্লোন ফোনের বিশাল ছড়াছড়ি ধরা পড়েছে। এসব ফোনে নিরাপত্তা টেস্ট না হওয়ায় রেডিয়েশন ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু জনজীবনে অসুবিধা এড়াতে এগুলো ব্লক করা হবে না—বরং গ্রে তালিকায় চিহ্নিত করা হবে।
শুক্রবার রাতে তাঁর যাচাইকৃত ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, নেটওয়ার্কে "1111111111111", "0000000000000" বা "9999999999999" জাতীয় সহজ প্যাটার্নের IMEI-এর বিপুল উপস্থিতি রয়েছে। শুধুমাত্র "99999999999999" IMEI-এর সাথে ৩ কোটি ৯১ লাখেরও বেশি কম্বিনেশন (ডকুমেন্ট আইডি + MSISDN + IMEI) ধরা পড়েছে গত ১০ বছরে। এছাড়া স্মার্টফোনের পাশাপাশি আইওটি ডিভাইস যেমন সিসিটিভি-তে একই IMEI ব্যবহারের ঘটনা দেখা যাচ্ছে, যদিও অপারেটররা এগুলো আলাদা করতে পারে না। সরকার বৈধ আইওটি ডিভাইসগুলো আলাদা করে ট্যাগ করার কাজ শুরু করেছে।
সবচেয়ে বেশি ডুপ্লিকেট IMEI-এর তালিকায় ৪৪০০১৫২০২০০০০ নম্বরে ১৯ লাখ ৪৯ হাজারের বেশি ডিভাইস, ৩৫২২৭৩০১৭৩৮৬৩৪-এ ১৭ লাখ ৫৮ হাজার, এবং শুধু শূন্য দিয়ে তৈরি IMEI-এ ৫ লাখ ৮৬ হাজারের বেশি সক্রিয়। অন্যান্য উল্লেখযোগ্য IMEI-এর মধ্যে রয়েছে ৩৫২৭৫১০১৯৫২৩২৬ (১৫ লাখ ২৩ হাজার), ৩৫৪৬৪৮০২০০০২৫ (৫ লাখ ৩৯ হাজার)সহ আরও কয়েকটি, যা সকলেই লাখ লাখের হিসাবে নেটওয়ার্কে চলমান।
এই ক্লোন ফোনগুলোর নিরাপত্তা যাচাই ছাড়াই চারটি মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে থাকায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে, বিশেষ করে Specific Absorption Rate (SAR) টেস্ট না হওয়ায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৪ সালের প্রতিবেদন অনুসারে, ৭৩% ডিজিটাল জালিয়াতি অনিবন্ধিত ডিভাইসে ঘটে; বিটিআরসি ও এমএফএস-এর তথ্যে ২০২৩ সালে e-KYC জালিয়াতির ৮৫% অবৈধ ফোনে হয়েছে। একই বছরে ১.৮ লাখ ফোন চুরির রিপোর্ট এসেছে, যাদের অধিকাংশ উদ্ধার অসম্ভব। ফয়েজ তৈয়্যব এই নজিরবিহীন প্রতারণা রোধে জরুরি পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়েছেন।
ডেস্ক রিপোর্ট