আগামী সপ্তাহে রাতের আকাশজুড়ে দেখা যাবে বিরল এক মহাজাগতিক দৃশ্য—‘লিওনিড উল্কাবৃষ্টি’। এ সময় প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ থেকে ২০টি উল্কা পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঝরে পড়বে বলে জানিয়েছে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে এই ঘটনাটি সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশ থেকেও দেখা যাবে।
লিওনিড উল্কাবৃষ্টি সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে ১৬ নভেম্বর রাত ১২টা থেকে ১৭ নভেম্বর ভোর ৩টা পর্যন্ত। এরপর ভোর সাড়ে ৩টার দিকে আকাশে উঠবে এক ফালি চাঁদ, তবে তার আলো এই উল্কাবৃষ্টির সৌন্দর্য ঢেকে দিতে পারবে না। পর্যবেক্ষকদের উত্তর গোলার্ধের আকাশে লিও (Leo) নক্ষত্রমণ্ডলের দিকে তাকিয়ে থাকলেই মিলবে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য।
জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্যমতে, এই উল্কাপাতের উৎপত্তি ‘৫৫পি/টেম্পল-টাটল’(55P/Tempel-Tuttle) নামের একটি ধূমকেতুর লেজ থেকে। ১৬৯৯ সালে সূর্যের কাছ দিয়ে অতিক্রম করার সময় ধূমকেতুটি তার কক্ষপথে ধুলা ও বরফের একটি রেখা ফেলে যায়। পৃথিবী প্রতি বছর নভেম্বরের এই সময় ওই ধূলিকণার স্তর অতিক্রম করে, যার ফলে ঘটে উল্কাবৃষ্টি।
ধূমকেতু ‘৫৫পি/টেম্পল-টাটল’ সূর্যকে একবার প্রদক্ষিণ করতে প্রায় ৩৩ বছর সময় নেয়। ১৮৬৫ সালে এর প্রথম আবিষ্কার হয়, আর পরবর্তীবার এটি পৃথিবীর কাছাকাছি আসবে ২০৩০ সালে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেই সময়ও উল্কাবৃষ্টির আরও উজ্জ্বল প্রদর্শন দেখা যেতে পারে।
এর আগে চলতি বছরের আগস্টে ‘পার্সাইড উল্কাবৃষ্টি’ নামে আরেকটি মহাজাগতিক ঘটনা বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে দেখা গিয়েছিল, যেখানে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ১০০টি উল্কা ঝরে পড়েছিল। তবে নভেম্বরে লিওনিড উল্কাবৃষ্টি হবে অপেক্ষাকৃত শান্ত কিন্তু দৃষ্টিনন্দন—অন্ধকার আকাশের নিচে ছাদে শুয়ে উপভোগ করা যাবে এক অনন্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক অভিজ্ঞতা।
ডেস্ক রিপোর্ট