লেবানন সরকারের নেওয়া হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের দূত মরগান ওর্টাগাস মঙ্গলবার বলেন, “কথার সময় শেষ, এখন বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়ার সময়।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, লেবানন পদক্ষেপ নিলে ইসরাইলও সেনা প্রত্যাহারে ইতিবাচক সাড়া দেবে।
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু এক দিন আগে ঘোষণা দেন, লেবানন সরকার হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণ শুরু করলে ইসরাইল ধাপে ধাপে সেনা ফিরিয়ে নেবে। ওর্টাগাসও জানান, লেবানন যে পদক্ষেপ নেবে, সেটির প্রতিফলন ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে উৎসাহিত করবে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের আরেক প্রতিনিধি টম ব্যারাক জানান, চলতি মাসের শেষে লেবাননের সেনাবাহিনী হিজবুল্লাহ নিরস্ত্রীকরণের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি এটিকে “ঐতিহাসিক সুযোগ” বলে উল্লেখ করেন। তবে হিজবুল্লাহর প্রধান নাইম কাসেম ইতোমধ্যেই নিরস্ত্রীকরণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের চাপ এবং ইসরাইলি সামরিক অভিযানের শঙ্কার মধ্যে লেবানন সরকার সেনাবাহিনীকে চলতি বছরের শেষ নাগাদ পরিকল্পনা প্রণয়নের দায়িত্ব দিয়েছে। এ উদ্যোগটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির অংশ, যা এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইল-হিজবুল্লাহ সংঘাতের অবসান ঘটাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লিটানি নদীর উত্তরে—অর্থাৎ ইসরাইল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে—সরিয়ে নিতে হবে। তাদের স্থলাভিষিক্ত হবে লেবাননের সেনা ও জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী। পাশাপাশি, ইসরাইলকে লেবানন থেকে সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। যদিও বর্তমানে দেশটি পাঁচটি কৌশলগত স্থানে সেনা মোতায়েন রেখেছে।