ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানিয়েছেন, মাঠপর্যায়ে মশককর্মীদের কার্যক্রম কঠোরভাবে তদারকি করার ফলে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা কমলেও ঝুঁকি এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রোববার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া সংলাপ: প্রতিরোধ, প্রস্তুতি ও নিয়ম’ শীর্ষক সমন্বয় সভা ও সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সভায় ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, কমিটির সদস্য, কীট নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ও বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএনসিসির প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের জুলাই মাসে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ছিল ৬ হাজার ৮৫০ জন, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে নেমে এসেছে মাত্র ৮৪৪ জনে। এজাজ জানান, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরিকে (বিএমটিএফ) মনিটরিং কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করার পর প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত তদারকি হচ্ছে। এর ফলে চলতি আগস্টের প্রথম ১৫ দিনে রোগীর সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ১৭০ জনে।
সভায় প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে কার্যকর মনিটরিংয়ের পাশাপাশি জনসচেতনতা ও জনগণের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। অন্যদিকে প্রশাসক এজাজ মনে করেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, হকার ও বাজারের অনিয়মই মশার প্রজনন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া মশা দমন কার্যক্রম সফল হবে না। এজন্য শহরের সর্বত্র পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন ও বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে।
সভা শেষে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ এবং প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ধারাবাহিক মনিটরিং এবং নাগরিকদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আসন্ন মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি আরও কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।