কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভুয়া তথ্য ও জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্ম নিবন্ধন ও নাগরিকত্বের সনদ সংগ্রহ করছে। এসব পরিচয়পত্র ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশি নাগরিক পরিচয়ে পাসপোর্টও নিচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র। গ্রেপ্তার হলেও মুক্তির পর অনেক রোহিঙ্গা আবারও জালিয়াতি চক্রে যুক্ত হচ্ছে।
এমন এক উদাহরণ রোহিঙ্গা হাফেজ আহমদ (৫০)। কক্সবাজার সদর মডেল থানার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে ছয় মাস কারাভোগ করলেও মুক্তির পর তিনি আবারও পরিবারের সদস্যদের নামে এনআইডি ও পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা চালান। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ও তার স্ত্রী–উভয়ের বিরুদ্ধেই জাল এনআইডি মামলায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। এমনকি কক্সবাজার পৌরসভার এক সাবেক কাউন্সিলরের প্রত্যয়ন দিয়েও নতুন করে এনআইডির আবেদন করেন তিনি।
এ ধরনের অনিয়মে শুধু হাফেজ নন, আরো অনেক রোহিঙ্গা যুক্ত। কক্সবাজারের সৈয়দ আলমকে রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট বানানোর দালালচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাতক্ষীরার ভুয়া জন্ম নিবন্ধন ব্যবহার করে কক্সবাজার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করতে গিয়ে দুই রোহিঙ্গা নারী ধরা পড়েন। পাসপোর্ট অফিস জানিয়েছে, ছবি বদলে নাম ও নম্বর মিলিয়ে জালিয়াতি করার কৌশল ব্যবহার করছে দালালরা।
স্থানীয় সূত্র বলছে, রোহিঙ্গারা ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে জন্ম নিবন্ধন জালিয়াতির মাধ্যমে সংগ্রহ করছে। এভাবে তাদের সন্তানরা দেশের বিভিন্ন স্কুল–মাদরাসায় ভর্তি হচ্ছে, যেখানে জাতীয়তা প্রমাণের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলেও ভর্তির সুযোগ পাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এসব শিক্ষার্থী ভবিষ্যতে ডিগ্রিধারী হয়ে সরকারি চাকরিতেও প্রবেশের সুযোগ পেতে পারে।
তিনি বলেন, “রোহিঙ্গাদের ভুয়া এনআইডি ও নাগরিকত্বের মাধ্যমে বৈধ পরিচয় পেয়ে যাওয়াটা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য বড় হুমকি।” ইতিমধ্যে তিনি নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে কয়েকজন রোহিঙ্গার ভুয়া এনআইডির লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।