পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় সমুদ্রের জোয়ার ও নিম্নচাপের প্রভাবে মাত্র দুই দিনের ভাঙনে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সদ্য নির্মিত মেরিন ড্রাইভ সড়কের একাধিক অংশ। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কটির অর্ধেকের বেশি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পর্যটক ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, অমাবস্যার জোয়ার ও নিম্নচাপের ফলে উপকূলে আছড়ে পড়ছে বিশাল ঢেউ। এতে দুই কিলোমিটারের বেশি সড়ক, গাইড ওয়াল, ওয়াকওয়ে এবং শুঁটকি বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২০২৪ সালে নির্মাণ সম্পন্ন হলেও এখনো আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়নি সড়কটির। এর আগেই গত মে মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘শক্তি’র আঘাতে কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই মাস না যেতেই ফের জলোচ্ছ্বাসে আরও বড় ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, "প্রতি বর্ষায় সাগরের ভাঙন হলেও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে ওঠেনি। অপরিকল্পিত ও নিম্নমানের নির্মাণই এর পেছনে মূল কারণ। এর ফলে পর্যটক কমে আসছে, স্থানীয় অর্থনীতিও ক্ষতির মুখে পড়ছে।"
বিশেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা। ঢেউয়ের তোড়ে দোকান ভেঙে যাওয়ায় তারা বিপাকে পড়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পর্যটননির্ভর অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।
প্রথম ধাপের ক্ষয়ক্ষতির পর পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কলাপাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক কমিটির প্রধান। সদ্য সাবেক ইউএনও রবিউল ইসলাম জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে চলমান লঘুচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে সাগর আরও উত্তাল হয়ে উঠেছে। ফলে পুরো মেরিন ড্রাইভ, আশপাশের সবুজ বেষ্টনী, ট্যুরিস্ট পুলিশ বক্স ও ডিসি পার্কসহ একাধিক স্থাপনাও ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ–প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম তুহিন জানান, আপৎকালীনভাবে জিও টিউব ও জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধের কাজ শুরু হয়েছে।
প্রতিবছর লক্ষাধিক পর্যটক কুয়াকাটায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখতে আসেন। এই পর্যটনের ওপর নির্ভর করে স্থানীয় বহু মানুষের জীবিকা। সৈকত রক্ষায় দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে স্থানীয়দের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে।
সমুদ্রের ঢেউয়ে ধসে পড়ল কুয়াকাটার কোটি টাকার মেরিন ড্রাইভ
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৯-০৭-২০২৫ ০৮:৫১:৫৮ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-০৭-২০২৫ ০৯:৩৩:৩৮ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
সর্বশেষ সংবাদ
এ জাতীয় আরো খবর
ডেস্ক রিপোর্ট