এই অসহায় কান্না যেন সন্তানকে হারিয়ে ফেলবার ভয়। এখন জমিও নেই, জমাও শেষ। অথচ সামলাতে হচ্ছে জন্মের পর থেকে থেকে ধরা পড়া সন্তানের রোগের চিকিৎসাভার।
সন্তানের নাম সাহাবুদ্দিনের। বয়স মাত্র ২১। অথচ এই বয়সেই একেবারে ড্যামেজ হয়ে গেছে তার দুটো কিডনিই। নতুন করে আবার রোগ বাসা বেঁধেছে লিভারে।
সাহাবুদ্দিন তার অসুস্থতা সম্পর্কে বলেন, ডায়ালাইসিস করতে করতে আমার হেপাটাইটিস সি ভাইরাস পজিটিভ হয়ে গেছে। যার কারণে এখন লিভারে সমস্যা হওয়ার কারণে শরীর দুর্বল থাকে, সবসময় খাবার হজম হয় না।
খরচের এ অভিশাপ শুধু সাহাবুদ্দিনের কিংবা একজন বাবার একার গল্প নয়, দেশের লাখ লাখ পরিবারের প্রতিচ্ছবি। যেখানে শুধু রোগের সঙ্গে লড়তে হয় না, শামিল হতে হয় রোগ সারানোর যুদ্ধেও। এসব রোগীদের সিটি স্ক্যান, এমআরআই, রক্ত পরীক্ষা, কেমোথেরাপি কিংবা দামি ওষুধ; সবকিছুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে খরচ। যা প্রতিমাসে ছাড়িয়ে যায় লাখ টাকাও। কেউ আবার মাঝপথেই থেমে যান। কারণ চিকিৎসাটা বেশ ব্যয়বহুল।
লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জন আসাদুজ্জামান নূর বলেন, যাদের কিডনি নষ্ট হয়ে যায় ইনিশিয়ালি কিন্তু বোঝাই যায় না টেস্ট ছাড়া। লিভারের ক্ষেত্রে এরকম। লিভার ইনিশিয়ালি ট্রাই করে কম্পেনসেট করতে। যখনই সে ফেইল হয় হঠাৎ আসে অ্যাডভান্স স্টেজে। আমাদের করার কিছু থাকে না। কস্ট নির্ভর করে, সার্জারির অ্যামাউন্টটা কেমন হতে পারে। কস্টটা এমন হতে পারে এক লাখ, দুই লাখ, অনেক সময় তিন লাখও হতে পারে। ডিপেন্ড করে আসলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে অধিকাংশ রোগী লিভার ক্যান্সার নিয়ে হাসপাতালে আসেন অনেক দেরিতে। ফলে অস্ত্রোপচারের সুযোগ কমে যায়, বাড়ে ব্যয়বহুল ওষুধ, মুখোমুখি হতে হয় জটিল চিকিৎসার।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ডিএমসিএইচ) লিভার বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এবিএম শাকিল গনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা মিডিয়া যদি এটা প্রচার করে যে মাকে টেস্ট করুন। সন্তান জন্মদানে সক্ষম প্রায় ১৫ থেকে ১৮ লাখ মা আছেন, যাদের বয়স ১৫ থেকে ৪৯। এরা কিন্তু ভাইরাস বহন করছে। ফলে এদের বাচ্চাদের ভ্যাকসিন দেয়া হলেও পজিটিভ হতে পারে।
রোগীদের এই ভয়াবহ যন্ত্রণার কথা কি জানে কর্তৃপক্ষ? এমন প্রশ্নের উত্তরে অসহায়ত্ব প্রকাশ করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। দাবি করেন সাধ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি।
এ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা আজকেও মিটিং করেছি, আমরা যেসব স্কিম নিয়েছি, আই হোপ আন্ডার দ্য লিডারশিপ অব এইচপিএম। ফাইভ ইয়ার্সে উই ক্যান ব্রিং এ চেঞ্জ ইন দ্য হেলথ সেক্টর।
তিনি সিন্ডিকেট সম্পর্কে আরও বলেন, কালকেও চাকরিতে এসেছি। সিন্ডিকেট রাখব না ইনশাআল্লাহ। সিন্ডিকেট থাকবে না। বাট টাইম লাগবে।
লিভারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো শরীরকে পরিশোধন করা। ঠিক যেভাবে কল্যাণ রাষ্ট্রের স্বাস্থ্য বিভাগ তার নাগরিকদের জন্য কাজ করে, সুরক্ষা দেয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে যতদিন না পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানের লিভার ট্রান্সপ্লান্ট ইনস্টিটিউট তৈরি হবে ততদিন রোগী ও তার স্বজনদের এই ভয়াবহ দুর্ভোগ কখনই কমবে না।