বাকৃবির ১০ তলা হলে লিফট নেই, না খেয়েই দিন কাটছে ছাত্রীদের
লিফট অচল থাকায় ৫৪৪ ছাত্রীর সিঁড়ি ভাঙার ভোগান্তি, দ্রুত একটি লিফট চালুর আশ্বাস
নিউজটি শুনুন
- আপলোড সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ০১:৩৫:৪১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-০৯-২০২৬ ০১:৩৭:২৩ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৯৯ বার পঠিত
ছবি— সংগৃহীত
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন বেগম খালেদা জিয়া হলে লিফট চালু না হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ৫৪৪ জন আবাসিক ছাত্রী। ১০ তলা ভবনটির বিভিন্ন তলায় বসবাসরত শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন দীর্ঘ সিঁড়ি ব্যবহার করে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে ক্লাসের বিরতিতে কক্ষে ফিরতে না পারা এবং নিচে নেমে খাবার সংগ্রহের অসুবিধায় অনেককে কখনো কখনো না খেয়েও থাকতে হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-১৫
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের অক্টোবরে বেগম খালেদা জিয়া হলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। শুরুতে ভবনের প্রথম ছয় তলা বসবাসের উপযোগী করে ৩৫০ জন ছাত্রীকে আসন দেওয়া হয়। পরে বাকি তলাগুলোর কাজ শেষ হলে চলতি বছরের ৫ জুলাই থেকে ২০২৫ ২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদেরও সেখানে আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে হলে ৫৪৪ জন ছাত্রী নিয়মিত বসবাস করছেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্লাস, পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রয়োজনে দিনে একাধিকবার সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে গিয়ে তারা শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। বিশেষ করে ওপরের তলায় থাকা শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি বেশি। ক্লাসের মাঝে এক বা দুই ঘণ্টার বিরতি থাকলেও সিঁড়ি ভাঙার কষ্টের কারণে অনেকেই কক্ষে ফিরতে চান না। তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাসের সময় আলাদা হওয়ায় দিনে একাধিকবার হলে যাতায়াত করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে উঠেছে।
খাবার নিয়েও রয়েছে সমস্যা। হলে শিক্ষার্থীদের নিজেদের খাবার রান্না করার কোনো ব্যবস্থা নেই। নিচতলার ক্যান্টিন বন্ধ থাকলে বা সেখান থেকে খাবার আনতে অসুবিধা হলে অনেককে খাবার না খেয়েই থাকতে হচ্ছে। ক্যান্টিনের খাবারের মান, পুষ্টিগুণ, বৈচিত্র্য, মূল্য ও পরিবেশনের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।
অষ্টম তলায় থাকা পশুপালন অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ক্লাস শেষে সিঁড়ি দিয়ে এত ওপরে উঠতে গিয়ে তারা আরও ক্লান্ত হয়ে পড়েন। ক্লাসের মাঝখানে বিরতি থাকলেও কক্ষে ফিরতে পারেন না। দিনে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক ক্লাস থাকায় একাধিকবার ওঠানামা করতে হয়। নিচতলায় থাকা ক্যান্টিন থেকে খাবার আনাও তাদের জন্য কষ্টকর বলে জানান তিনি।
দশম তলায় থাকা প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একবার ওপরে ওঠার পর আবার নিচে নামতে ভয় লাগে। ফলে অনেক সময় দিনে এক বেলা খাবার খেয়েই থাকতে হয়। সকালে নাশতা করার সুযোগও অনেক সময় হয় না। বিশেষ করে শুক্র ও শনিবার ক্লাস না থাকায় খাবারের সংকট আরও বেড়ে যায় বলে জানান তিনি।
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ওপরের তলায় কোনো ছাত্রী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসা শেষে আবার ওপরে তোলা অত্যন্ত কষ্টকর। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পড়াশোনা ও জীবনযাত্রার জন্য দ্রুত লিফট চালু করার দাবি জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগের বিষয়ে হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ ও উদ্বেগ যৌক্তিক। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দ্রুত সংকট সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর হাউস টিউটর ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। লিফট স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একটি লিফট শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী মুহ. এনামুল হক জানান, খালেদা জিয়া হলের জন্য বরাদ্দ জাপানি প্রযুক্তির নতুন লিফটটির মেশিনসহ মূল কাঠামোগত স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে লিফটটি তৃতীয় তলা পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও প্রায় এক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। পরীক্ষামূলক যাচাই শেষে লিফটটি স্থায়ীভাবে ব্যবহারের উপযোগী ঘোষণা করা হবে।
তিনি আরও জানান, আপাতত একটি লিফট দ্রুত চালুর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাকি লিফটগুলোর যন্ত্রাংশ ক্যাম্পাসে পৌঁছালেও সেগুলোর স্থাপন কাজ শুরু হয়নি। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করে একটি লিফট দ্রুত সচল করাই বর্তমানে অগ্রাধিকার।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।