অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ
শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা নিয়ে সতর্ক করলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
- আপলোড সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০৯:১২:৪৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ০৪-১১-২০২৬ ০৯:১২:৪৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৮ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও সহিংস পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একই সঙ্গে শ্রমিক আন্দোলনের নামে সহিংসতা ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে সংশোধিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া পর্যালোচনা সংক্রান্ত সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
শ্রমিকদের চলমান আন্দোলন সম্পর্কে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোথাও কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সেটিকে আন্দোলন, রাজনৈতিক এজেন্ডা নাকি সহিংসতা হিসেবে বিবেচনা করা হবে, তা নতুন করে সংজ্ঞায়িত করতে হবে।
তিনি বলেন, পোশাকশ্রমিকদের দাবি ছিল নির্ধারিত সময় অনুযায়ী নতুন করে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য মজুরি বোর্ড গঠন করা। সরকার আগেই এ উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধির নাম পেতে কিছুটা সময় লাগায় বোর্ড গঠনে বিলম্ব হয়। শ্রমিকপক্ষ নাম দেওয়ার পরদিনই বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বুধবার বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মজুরি নির্ধারণের নির্দেশনা দিয়েছেন। সরকারের লক্ষ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করা এবং কর্মসংস্থান বাড়ানো।
চলমান সহিংসতার বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি শ্রমিক আন্দোলনের নামে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যানবাহনে হামলা ও অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়াচ্ছেন। এ ঘটনায় অতীতে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, এমন কয়েকজন শিল্পমালিকের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ও সামনে এসেছে বলে জানান তিনি। তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশের ভেতরে ও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, যেকোনো ন্যায্য দাবি নিয়ে আলোচনা করতে সরকার প্রস্তুত। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থা রয়েছে। মালিকপক্ষ ও শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে সরকার বৈঠক করেছে। তাঁর দাবি, বর্তমান সহিংসতা শ্রমিকদের আন্দোলন নয়; বরং কেউ কেউ শ্রমিকদের ব্যবহার করে রাজনৈতিক সহিংসতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ধৈর্যের পরিচয় দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্য হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এরপরও বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনের অতিরিক্ত বল প্রয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শ্রমিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও শিল্প উৎপাদন যাতে ব্যাহত না হয়, তা বিবেচনায় নিতে হবে। মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং কাজ শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই নতুন মজুরি ঘোষণা করতে বোর্ডকে বলা হয়েছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে নতুন মজুরি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগেই ঘোষণা করা সম্ভব হলে তা ভালো হবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।