লংমার্চ বাদ দিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
সংবিধান সংস্কার ও গণতন্ত্র সুরক্ষায় রাজনৈতিক ঐকমত্যের ওপর গুরুত্ব
- আপলোড সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:১৩:৫১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ৩১-১০-২০২৬ ০৯:১৩:৫১ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৩ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
লংমার্চ কর্মসূচি বাদ দিয়ে সংবিধান সংস্কারসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনায় বসতে বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, লংমার্চের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংস্কার আনতে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সমঝোতা জরুরি।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মনসুন থিয়েটারে ‘গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে যেন দেশে আর কোনো স্বৈরশাসন বা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার উত্থান না ঘটে, সে জন্য রাজনৈতিক ঐক্য ও বিরোধী দলের সহযোগিতা প্রয়োজন। জাতীয় স্বার্থে সব পক্ষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে, যাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হয়।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর ভারসাম্য নিশ্চিত করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঐকমত্য ও সমঝোতাকে গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে সংস্কার দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর ও টেকসই হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার স্থায়ী আইনি কাঠামো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গণতন্ত্র সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য কার্যকর নজরদারি ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মহাপরিচালক এহসান মাহমুদ। প্রধান বক্তা ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। আলোচনায় অংশ নেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য ফিরোজ আহমেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাবিবুর রহমান।
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন এবং ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এসব রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক পরিবর্তন দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত।
ভবিষ্যতের রাজনৈতিক কাঠামো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও বিচারকদের জবাবদিহি আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যাতে রাষ্ট্রের কোনো অঙ্গই অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে উঠতে না পারে।
উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব বা পিআর পদ্ধতি এবং গণভোটসংক্রান্ত প্রস্তাব নিয়েও বিরোধী দলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চায় না; গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের ঐক্য প্রয়োজন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।