তুরাগ নদে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফের লাশ উদ্ধার
মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন তার খালাতো বোন
- আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১২:৫৭:১৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩১ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর বরখাস্তকৃত কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ থাকার পর বুধবার বিকালে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার রাজাবাড়ী ঘাট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তার মৃত্যুকে দুর্ঘটনা হিসেবে মেনে নিতে নারাজ পরিবার। তাহসিফকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার খালাতো বোন মোশফেকা জাহান।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মোশফেকা জাহান অভিযোগ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করার কারণে তাহসিফকে দীর্ঘদিন মানসিক চাপ ও হয়রানির মধ্যে রাখা হয়েছিল। অবসরে পাঠানোর পরও গোয়েন্দারা তাকে অনুসরণ করতেন বলে তাহসিফ তাকে জানিয়েছিলেন। তার দাবি, সুস্থ তাহসিফকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো তদন্তের ফলাফল বা আনুষ্ঠানিক প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
পোস্টে মোশফেকা জাহান তাহসিফের মৃত্যুর জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করার দাবি জানান। দেশপ্রেমিক হওয়ার কারণে তাকে এমন পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনে তার খালার রাজপথে থাকার বিষয়টি উল্লেখ করে পরিবারের প্রতি অন্যায়ের অভিযোগ করেন।
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নাম আগে আলোচনায় এসেছিল। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো পক্ষ নিশ্চিত করেনি। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) গত বছরের ৪ আগস্ট জানায়, কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুসরণ করে অন্য একটি প্রেক্ষাপটে তাহসিফকে অবসরে পাঠানো হয়েছিল।
নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকাল ৪টার দিকে টঙ্গী নৌপুলিশ ফাঁড়ির একটি দল তুরাগ নদের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে নদে লাশ ভাসার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।
উদ্ধারের সময় তাহসিফের পরনে সাদা পায়জামা ও কালো পাঞ্জাবি ছিল। তার হাতে ঘড়ি এবং পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তবে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।