৪৬ বছর পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্য
প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যের কাঠামো, মেয়াদ পাঁচ বছর
- আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০৯:২৫:২৫ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০৯:২৫:২৫ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ৩৫ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ ৪৬ বছর পর নতুন কাঠামোয় গ্রাম সরকারব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে ১৭ সদস্যের গ্রাম সরকার গঠনের বিধান রেখে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০২৬’ এর খসড়া তৈরি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। প্রস্তাবিত আইনে স্থানীয় উন্নয়ন, সরকারি সেবা বাস্তবায়নে সহযোগিতা এবং সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় গ্রাম সরকারের দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আইনটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। খসড়ার ওপর জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ১৯৮০ সালে স্বনির্ভর গ্রাম সরকার চালু হয়েছিল। পরে বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এ ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়। ২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন করে গ্রাম সরকার আইন করলেও ২০০৯ সালে তা বাতিল করা হয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আবারও এই ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলো।
খসড়ায় বলা হয়েছে, প্রতিটি গ্রাম সরকারে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের নির্বাচিত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হবেন প্রধান। সংরক্ষিত আসনের নারী ইউপি সদস্য তাঁর নির্বাচনি এলাকার গ্রাম সরকারগুলোর উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রথম সভা থেকে গ্রাম সরকারের মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
১৫ সদস্যের মধ্যে দুজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একজন পুরুষ ও একজন নারী সদস্য এবং দুজন কৃষক রাখার প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া নিকাহ রেজিস্ট্রার, সমবায় সমিতির সদস্য, পল্লিচিকিৎসক, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, শ্রমিক ও যুব প্রতিনিধি থাকবেন একজন করে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসবাস থাকলে তাদের একজন প্রতিনিধিও অন্তর্ভুক্ত হবেন। কোনো শ্রেণির প্রতিনিধি পাওয়া না গেলে গণ্যমান্য ব্যক্তি বা সমাজসেবকের সংখ্যা বাড়িয়ে শূন্যস্থান পূরণ করা হবে।
সদস্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটার তালিকায় থাকা অন্তত ১০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতিতে হ্যাঁ-না ভোট আয়োজনের প্রস্তাব করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অথবা তাঁর ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে নির্বাচন পরিচালিত হবে।
প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, গ্রামের রাস্তাঘাট ও কালভার্ট উন্নয়নে অগ্রাধিকারভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি ও আর্থিক বিষয় পর্যালোচনা এবং সরকারি সেবা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে গ্রাম সরকার। নারী ও শিশু নির্যাতন, সন্ত্রাস, চুরি, মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায় উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্বও থাকবে প্রতিষ্ঠানটির।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন কার্যক্রমে সহযোগিতা করার কথা বলা হয়েছে খসড়ায়। কৃষি উপকরণের সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে সংকটের তথ্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং সমবায়, কুটিরশিল্প, মৎস্যচাষ, পশুপালন, বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে মানুষকে উৎসাহিত করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।
খসড়ায় প্রতি দুই মাসে অন্তত একটি সভা এবং প্রতি ছয় মাসে একটি সাধারণ সভা আয়োজনের বিধান রয়েছে। সাধারণ সভায় ওয়ার্ডের অন্তত ১০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে। কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক কমিটি ও প্রয়োজনে উপকমিটি গঠনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
গ্রাম সরকারের জন্য পৃথক তহবিল গঠনের প্রস্তাবও করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থ এ তহবিলে জমা হবে। দাপ্তরিক উপকরণ কেনার ব্যয় নির্বাহে ইউনিয়ন পরিষদ নিজস্ব আয়ের একটি অংশ দেবে। গ্রাম সরকারের কার্যক্রম পরিদর্শন ও তদন্তের বিধানও রয়েছে।
দায়িত্ব পালনে ধারাবাহিক ব্যর্থতা, প্রশাসনিক বা আর্থিক অক্ষমতা, জনস্বার্থবিরোধী কার্যক্রম কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেলে জেলা প্রশাসক গ্রাম সরকার বাতিল করতে পারবেন। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে খসড়াটি প্রকাশ করে জনসাধারণের মতামত চাওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও ওয়ার্ড সভা থাকার পরও নতুন এই কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা, জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং দায়িত্বের পুনরাবৃত্তি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত হওয়ার পর এর বাস্তবায়ন ও কার্যকারিতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।