খাদ্যশস্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চায় বাংলাদেশ
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে আমদানি করা চাল-গমের মান পরীক্ষায় বিশেষজ্ঞ সহায়তা এবং আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা।
- আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৩:০১:২৬ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৩:০১:২৬ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২১ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমদানি করা খাদ্যশস্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে চাল ও গম সংরক্ষণের সক্ষমতা বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি সহায়তা চেয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। এ বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। রোববার (২৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে খাদ্যমন্ত্রীর দপ্তরে তাঁদের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে খাদ্যমন্ত্রী মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা এবং আমদানি করা খাদ্যশস্যের মান নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, আমদানি করা চাল ও গমের গুণগত মান যথাযথভাবে যাচাই করা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে খাদ্যশস্য পরীক্ষার কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের কারিগরি সহায়তা দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের সহযোগিতা খাদ্যশস্যের মান পরীক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
দীর্ঘমেয়াদে খাদ্যশস্য সংরক্ষণের বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশের আবহাওয়াগত পরিস্থিতির কারণে চাল ও গম দীর্ঘ সময় ভালো অবস্থায় সংরক্ষণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা মোকাবিলায় আধুনিক সংরক্ষণ প্রযুক্তি, উন্নত ব্যবস্থাপনা এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা।
জবাবে মার্কিন রাষ্ট্রদূত খাদ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষজ্ঞদের সহযোগিতার সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে বলে তিনি জানান।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে গম আমদানির বিষয়েও আলোচনা হয়। বিদ্যমান চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গম আমদানি সম্পন্ন হওয়া এবং এ ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা না থাকায় উভয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করে।
এ সময় খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা গমবাহী একটি জাহাজ পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কাছে তুলে ধরেন।
সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাগ্রিকালচারাল অ্যাটাশে এরিন কোভার্ট, খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মু. জসীম উদ্দিন খান এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টদের আলোচনায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা, আমদানি করা খাদ্যশস্যের মান পরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণব্যবস্থার উন্নয়নে সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। প্রস্তাবিত কারিগরি সহায়তা বাস্তবায়িত হলে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ ও মান নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা উন্নয়নে তা ভূমিকা রাখতে পারে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।