দিল্লি এড়িয়ে রুবিওর ভারত সফর, বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ
রাজধানীর পরিবর্তে মুম্বাই ও জামনগরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসূচিতে বাণিজ্য, জ্বালানি ও ব্যবসায়িক স্বার্থের গুরুত্ব স্পষ্ট
- আপলোড সময় : ২৩-১০-২০২৬ ০৯:৪২:১৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-১০-২০২৬ ০৯:৪২:১৪ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩১ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এড়িয়ে মুম্বাই ও জামনগর সফরের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর এবারের ভারত সফর দুই দেশের সম্পর্কের অগ্রাধিকারে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কূটনৈতিক বৈঠকের প্রচলিত কেন্দ্রের বাইরে ব্যবসা, জ্বালানি ও বাণিজ্যিক সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়ার এ উদ্যোগকে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের একটি সম্ভাব্য নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছে দ্য ডিপ্লোম্যাট।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুবিওর এবারের সফরসূচি প্রচলিত কূটনৈতিক রীতির তুলনায় ব্যতিক্রমী। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো উচ্চপর্যায়ের কোনো বিদেশি প্রতিনিধির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু এবার রুবিও ভারতের আর্থিক কেন্দ্র মুম্বাই এবং গুজরাটের জামনগর সফর করেছেন। জামনগরে রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের বিশাল তেল শোধনাগার।
সফরের এই বিন্যাস এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি কেনা এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ওয়াশিংটনের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। ফলে এবারের সফরকে শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগ হিসেবে না দেখে অর্থনৈতিক স্বার্থের ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের প্রচেষ্টা হিসেবেও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।
রুবিও ২০ অক্টোবর মুম্বাইয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে তিনি উজবেকিস্তানের সমরকন্দ সফর করেন। ভারত সফরে নয়াদিল্লি বাদ পড়ায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও সফরসূচি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদেশি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক নয়াদিল্লির বাইরে আয়োজন করা নজিরবিহীন নয়।
রুবিওর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মুকেশ আম্বানির সঙ্গে সাক্ষাৎ। প্রতিষ্ঠানটির তেল শোধনাগার আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বাণিজ্যিক সম্পর্ককে কূটনীতির অংশ হিসেবে কাজে লাগানোর ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবণতার সঙ্গে এই বৈঠকের মিল রয়েছে। জ্বালানি বাজারের পরিস্থিতি এবং দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত সহযোগিতা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে সম্পর্কের ওপর চাপ বেড়েছে। ওয়াশিংটনের শুল্ক আরোপের নীতি এবং ভারতের রুশ জ্বালানি আমদানি নিয়ে মার্কিন অসন্তোষ দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্য বাড়িয়েছে। পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের যোগাযোগ ভারতের উদ্বেগের কারণ হয়েছে। ফলে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত অংশীদারত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি দুই পক্ষকে পারস্পরিক আস্থার সংকটও মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবসায়িক স্বার্থকে সামনে রেখে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা দুই দেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে শুধু বাণিজ্যিক যোগাযোগ বাড়ালেই বিদ্যমান মতপার্থক্য দূর হবে না। শুল্কনীতি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক কৌশল এবং পারস্পরিক আস্থার মতো বিষয়গুলোর সমাধানও প্রয়োজন।
রুবিওর এই সফর তাই ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের অগ্রাধিকার নিয়ে নতুন প্রশ্ন সামনে এনেছে। ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লি ভবিষ্যতে কীভাবে বাণিজ্যিক স্বার্থ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং কৌশলগত সম্পর্কের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে, তার ওপরই নির্ভর করবে এই সফরের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।