আওয়ামী লীগের ভোট বিএনপি চেয়েছিল: শফিকুর রহমান
জুলাই জাতীয় সনদের বর্ষপূর্তির আলোচনা সভায় সরকারের সমালোচনা, চাঁদাবাজি বন্ধ ও জনগণের অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জামায়াত আমিরের।
- আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৩:২৭:২৪ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-১০-২০২৬ ০৩:২৮:২৮ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২৬ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
নির্বাচনের সময় বিএনপি আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে সমালোচনা করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের অন্য নেতারাও বিএনপির নির্বাচনী সাফল্যে আওয়ামী লীগের ভোটের ভূমিকা থাকার দাবি করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বিএনপির নির্বাচনী অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
বিএনপি জামায়াতকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে সমালোচনা করছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে রাজনৈতিক বয়ান তৈরি করা হচ্ছে। তিনি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন এবং বিএনপির বক্তব্যের সঙ্গে তাদের নিজেদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে অর্থ, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশের বিষয় তুলে ধরে তিনি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, সীমান্তপথে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধ করতে না পারলে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
সরকারের সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি ও করব্যবস্থা নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের ওপর করের চাপ বাড়ছে, অথচ জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রবাসীদের দেশে ফিরে আসা, কর্মসংস্থান এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা থাকা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া এবং বাজারে পণ্যের দামের পার্থক্য তুলে ধরে শফিকুর রহমান বলেন, উৎপাদকরা অনেক ক্ষেত্রে তাঁদের পণ্যের উপযুক্ত মূল্য পাচ্ছেন না, অথচ রাজধানীর ভোক্তাদের বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজির কারণে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধে সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনায় শুধু পদত্যাগের মতো প্রশাসনিক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; দায়ীদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং সড়কে ডাকাতির অভিযোগ নিয়েও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর পরিবর্তে জনগণের সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ১১-দলীয় জোটের কর্মসূচি কোনো দলীয় স্বার্থে নয়, বরং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে পরিচালিত হচ্ছে। এসব দাবি বাস্তবায়নে চাপ সৃষ্টি করা হলেও তাঁরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।
জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ পরিবর্তন ও সংস্কার চায়। তাঁর দাবি, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। জনগণের এই প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার বাস্তবায়নের আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষাংশে শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের দল নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্বাস করে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সমর্থন করে না। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথাও জানান জামায়াত আমির।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।