আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুপারিশ
আগামী বছরের শুরুতে নির্বাচন আয়োজনের আশা সংসদীয় কমিটির, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের দুর্নীতি তদন্তের তাগিদ
- আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৯:২০:৩১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ০৯:২০:৩১ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিশ্চিত করে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সুপারিশ করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশি ও বিদেশি অর্থায়নে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্ত এবং জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিটি। আগামী বছরের শুরুর দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে এসব সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি কে এম সেলিম রেজা হাবিব।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি জানান, সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যরা দ্রুত স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তবে জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা বেশি জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ। এ ধরনের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাহিনীগুলোর যে প্রস্তুতি প্রয়োজন, তা এখনো পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি বলে কমিটি মনে করে। তাই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির জন্য সময় দিয়ে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার সুপারিশ করা হয়েছে।
স্থানীয় নির্বাচনে ঝুঁকির কারণ ব্যাখ্যা করে কে এম সেলিম রেজা হাবিব বলেন, জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা বেশি থাকে। এসব নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ ওয়ার্ডের সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী ওয়ার্ডের সদস্য পদে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতিটি কেন্দ্রে প্রার্থীদের কর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতি থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি তৎপরতা প্রয়োজন। তবে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া হলে আগামী বছরের শুরুর দিকে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। গ্রামীণ সড়ক নির্মাণের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টির বিপরীতে জামানত নেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন সংস্থার চলমান প্রকল্পের তথ্য উপস্থাপনের পর কয়েকজন সদস্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নেওয়া অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের অভিযোগ, কিছু প্রকল্প দুর্নীতির উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছিল। এসব প্রকল্প চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। জবাবে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কয়েকটি প্রকল্পের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনও কাজ করছে।
কমিটির সভাপতি বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অপ্রয়োজনীয় ও দুর্নীতির উদ্দেশ্যে নেওয়া প্রকল্পগুলো বাদ দিয়ে জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় এবং বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে মত দেওয়া হয়েছে।
অবকাঠামো নির্মাণের মান নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে গুণগত মান বজায় রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন। এসব নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা হলে নির্মাণকাজে মানের সঙ্গে আপস করার সুযোগ কমবে।
এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে দায়িত্ব পালনের সুপারিশ করেছে কমিটি। উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা ব্যবস্থা চালু, নির্মাণকাজের তদারকি জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে কার্যকর নজরদারির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণের সুপারিশও করা হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং মো. রফিকুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।