ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সরকার
নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা
- আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৬ ১০:১৩:৪৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৬ ১০:১৩:৪৯ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২০ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে নারী ও শিশুদের কল্যাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ইউনিসেফের সঙ্গে আরও জোরালো ও ফলাফলভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি। রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেলের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে ইউনিসেফের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা এবং নারী ও শিশুদের উন্নয়ন ও কল্যাণে চলমান কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় ইউনিসেফের বাংলাদেশ প্রতিনিধি জিলিয়ান মেলসপ, উপপ্রতিনিধি ইমানুয়েল আব্রিউ এবং শিশু সুরক্ষা বিশেষজ্ঞ শাবনাজ জাহেরীন উপস্থিত ছিলেন। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব রাষ্ট্রদূত আসাদ আলম সিয়াম ও মহাপরিচালক কাজী এহসানুল হক।
বৈঠকের শুরুতে শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশে সামাজিক কল্যাণে ইউনিসেফের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে সংস্থাটি ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতা করে আসছে। বর্তমান সরকার এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে নারী ও শিশুরা মর্যাদা, সমান সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সেবা পাবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’-এর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে সরকার পরিবারপ্রধান নারীদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। এর ফলে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শিক্ষার উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, বিনা মূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ এবং মেয়েদের স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনা মূল্যে শিক্ষার সুযোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া কমানো এবং শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা।
মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, গত দুই দশকে মাতৃমৃত্যু, নবজাতক, শিশুমৃত্যু এবং পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মৃত্যুহার কমাতে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। এ খাতে অগ্রগতি আরও এগিয়ে নিতে সরকার স্বাস্থ্য বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করেছে। কমিউনিটিভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রাথমিক পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী, দক্ষ মাতৃসেবা এবং সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি মানসম্মত শিক্ষা সম্প্রসারণ, শিক্ষার ফল উন্নয়ন এবং শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ ধীরে ধীরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্য, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ঝরে পড়া এবং মেয়েদের সীমিত অর্থনৈতিক সুযোগের মতো কারণ বিবেচনায় নিয়ে সরকার বিষয়টি মোকাবিলার উদ্যোগ নিচ্ছে।
বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে নারীদের ঝুঁকি, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং কিশোর অপরাধ নিয়েও আলোচনা হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে নারীর প্রতি সহিংসতার বিষয়টি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি নিউইয়র্কে মেটার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় চালুর বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও সুরক্ষায় ইউনিসেফের ধারাবাহিক সহায়তারও প্রশংসা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক ক্যাথরিন রাসেল বৈঠকে আতিথেয়তার জন্য প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শিশুমৃত্যু হ্রাস, শিশুদের খর্বাকৃতির হার কমানো, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বৃদ্ধি, জন্মনিবন্ধনের আওতা সম্প্রসারণ এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।
বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি ভবিষ্যতেও ইউনিসেফের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। বৈঠক শেষে শামা ওবায়েদ মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, মানসম্মত শিক্ষা, কিশোরীদের ক্ষমতায়ন, শিশু সুরক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রে ইউনিসেফের সঙ্গে আরও শক্তিশালী ও ফলাফলভিত্তিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।