ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা উন্নয়নে সাত দিনের সময়, জন্মদিনে গাছ লাগানোর পরামর্শ
- আপলোড সময় : ১৭-১০-২০২৬ ১২:৫১:৪৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৭-১০-২০২৬ ১২:৫১:৪৯ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১১ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে শিক্ষার্থী, তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে দেখতে এদিন রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিকভাবে পরিদর্শন করেন তিনি।
দিনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন। এ সময় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি।
পরে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে গিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। প্রতিবছর এ রোগে অনেক মানুষ আক্রান্ত হন এবং অনেকে মারা যান। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো প্রতিরোধ। এ জন্য চারপাশ পরিষ্কার রাখা জরুরি।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়। এ কাজে তাঁদের সহযোগিতা প্রয়োজন। বিপুলসংখ্যক তরুণ নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিলে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
ঢাকার পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, রাজধানীতে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাঁদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি করপোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হোক বা না হোক, তারা সবাই দেশের নাগরিক এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। নিজেদের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব তাদেরও নিতে হবে।
যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক জায়গা থেকে ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে। এসব ঘটনা বন্ধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিজেদের এবং পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী। গাছ বাড়িতে, স্কুলে কিংবা গ্রামের বাড়িতে লাগানো যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি। গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মও বেড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাজধানীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে এবং গাছপালা কমে গেছে। ফলে শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গাছের সংখ্যা বাড়লে মানুষ আরও স্বস্তিতে শ্বাস নিতে পারবে। সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রা কিছুটা কমানোও সম্ভব।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়নে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার কাজে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। শিক্ষার্থীরা তাঁর আহ্বানে ইতিবাচক সাড়া দেয়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।