সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড
প্রায় ৬৭৮ কোটি টাকার সোনা ও হীরা সংগ্রহের উৎস জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিআইডি
- আপলোড সময় : ২০-১০-২০২৬ ০৯:৪১:৩০ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২০-১০-২০২৬ ০৯:৪১:৩০ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১০ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা চোরাচালান এবং অর্থ পাচারের মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল হাসান দিলীপের তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই, সোনা ও হীরার প্রকৃত উৎস শনাক্ত, সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং অর্থ পাচারের পরিমাণ নির্ধারণে দিলীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। তাঁদের দাবি, বিদেশ থেকে বৈধভাবে সোনা আমদানি করা হয়েছে এবং সোনা ও হীরা কেনাবেচার রেজিস্টারসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র তদন্ত কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে। মামলার অভিযোগও মিথ্যা বলে দাবি করেন তাঁরা।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী হিসেবে দিলীপ কুমার আগরওয়ালা দীর্ঘদিন ধরে সোনা ও হীরার ব্যবসার আড়ালে চোরাচালান ও অর্থ পাচারে জড়িত ছিলেন।
এজাহারের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে বৈধভাবে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার সোনার বার, অলংকার এবং অলংকারে ব্যবহারের উপযোগী হীরা আমদানি করা হয়। তবে একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় ও পরিবর্তন পদ্ধতিতে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার সোনা ও হীরা সংগ্রহ করে কোম্পানিটি।
সিআইডির অভিযোগ, এসব সোনা ও হীরার উৎস এবং সরবরাহকারীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈধ নথিপত্র দেখাতে পারেনি ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড। প্রাথমিক তদন্তে নথিপত্রের ঘাটতির কারণে এসব সোনা ও হীরা অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব। ওই রাতে গুলশানে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের কার্যালয়ে অভিযান চালানো হয়। পরে ঢাকার বাড্ডায় হৃদয় আহমেদ নামে এক কিশোরকে হত্যার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।