টঙ্গীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার
শিশুটির বাবার মামলা, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও অর্থ লুটের পাল্টা অভিযোগ কর্তৃপক্ষের
- আপলোড সময় : ২৩-১০-২০২৬ ০৯:৫২:৩৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৩-১০-২০২৬ ০৯:৫২:৩৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৪৪ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন শিশুটির বাবা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার শিক্ষককে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। অন্যদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসায় ভাঙচুর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের অভিযোগে থানায় পৃথক অভিযোগ দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত করছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধরের পর পুলিশের হাতে তুলে দেন শিশুটির স্বজন ও স্থানীয় লোকজন। শিশুটির বাবার করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত সোমবার মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে শিশুটিকে যৌন নিপীড়ন করা হয়।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর থেকে সে মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের লোকজন এর কারণ জানতে চাইলে প্রথমে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়। এরপর বুধবার দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। একপর্যায়ে শিক্ষককে মারধর করা হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও অধ্যক্ষ আলমাছ হোসেনের অভিযোগ, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি দল মাদ্রাসায় ঢুকে শিক্ষক মোসলেম আহম্মদকে মারধর করে। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও নিরাপত্তাকর্মীদেরও মারধর করা হয়। এ সময় মাদ্রাসার কার্যালয় ভাঙচুর করে ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুট করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, মাদ্রাসার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
তবে লুটপাটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির বাবা। শুক্রবার দুপুরে তিনি জানান, ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গা থেকে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও হুমকিমূলক মন্তব্য করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এসব কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান শিশুটির বাবা।
অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষককে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও শিক্ষকদের মারধরের অভিযোগে কর্তৃপক্ষও পৃথক অভিযোগ দিয়েছে।
হুমকির বিষয়ে ওসি বলেন, উভয় পক্ষই মৌখিকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।