ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ (হেমন্তকাল) , ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
সংবাদ শিরোনাম :
খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলায় সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ পুনর্গঠন ও বিভক্তকরণ সাংবাদিকদের নিয়ে মন্তব্য, এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীকে আইনি নোটিশ শুধু আইনে সড়ক নিরাপদ হবে না, প্রয়োজন কার্যকর প্রয়োগ: ইলিয়াস কাঞ্চন টঙ্গীতে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার দিল্লি এড়িয়ে রুবিওর ভারত সফর, বদলাচ্ছে সম্পর্কের সমীকরণ ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ, তবু বাতিল বিআরটি প্রকল্প রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকারের চার বড় উদ্যোগ ইউনিসেফের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ সরকার লাওসে চীনের নতুন সামরিক ঘাঁটি, বাড়ছে আঞ্চলিক উদ্বেগ সোনা-হীরা চোরাচালান মামলায় দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড হাইকোর্টে অগ্নিনিরাপত্তা প্রশিক্ষণ ও উদ্ধার মহড়া বাংলাদেশে ভয়াবহ হামের প্রাদুর্ভাব, বিশ্বের জন্য সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: দেশের অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি যুবসমাজ ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নভেম্বরের মধ্যে রূপপুর থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে মক্কায় মসজিদের ভেতরে ‘অনৈতিক কাজ’ করার দায়ে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড মাদক, কিশোর গ্যাং ও র‍্যাগ ডে রোধে মাউশির নির্দেশ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা সর্বকালের রেকর্ড ছাড়িয়েছে

রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম

ডিম, মুরগি ও মসুর ডালের দাম কমেছে, স্থিতিশীল তেল ও চিনি

নিউজটি শুনুন
  • আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৯:০২:২৬ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৯:০২:২৬ অপরাহ্ন
  • ৫ মিনিট পড়ার সময়
  • ৩২ বার পঠিত
রমজান সামনে রেখে বাড়ছে নিত্যপণ্যের আমদানি, কমেছে কয়েকটির দাম সংগৃহীত ছবি

আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ভোজ্যতেল, চিনি, ছোলা, মসুর ডাল ও খেজুরের আমদানি এবং ঋণপত্র (এলসি) খোলার পরিমাণ বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এসব পণ্যের আমদানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রমজানে বাড়তি চাহিদা মেটাতে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বাজারে ডিম, ব্রয়লার মুরগি ও মসুর ডালের দাম কমেছে। ভোজ্যতেল ও চিনির দাম রয়েছে স্থিতিশীল। তবে আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয় ও শুল্ক পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সরকার।


সোমবার (২৬ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের উপস্থাপিত তথ্য থেকে এসব চিত্র উঠে আসে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। রমজানে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, দাম স্থিতিশীল রাখা এবং আমদানি ও শুল্কসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনের বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।


ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে ৮ দশমিক ২৩ লাখ মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ০৫ লাখ মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ১ দশমিক ১৮ লাখ মেট্রিক টন। এ সময়ে ভোজ্যতেলের এলসি খোলা হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ লাখ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৩১ লাখ মেট্রিক টন বেশি। সয়াবিন বীজ আমদানি হয়েছে ৫ দশমিক ০১ লাখ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের তুলনায় ১ দশমিক ১৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি।


এ সময়ে চিনি আমদানি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৭ লাখ মেট্রিক টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৫৩ লাখ মেট্রিক টন বেশি। চিনির এলসি খোলার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ১০ লাখ মেট্রিক টনে।


রমজানের ইফতারে বহুল ব্যবহৃত ছোলার আমদানিও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি অর্থবছরের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ছোলা আমদানি হয়েছে ৮২ হাজার মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১২ হাজার মেট্রিক টন। অর্থাৎ আমদানি বেড়েছে ৭০ হাজার মেট্রিক টন। এ সময়ে ছোলার এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন।


অন্যদিকে, মসুর ডাল আমদানি হয়েছে ১ লাখ ২২ হাজার মেট্রিক টন, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৪ হাজার মেট্রিক টন বেশি। এ সময়ে মসুর ডালের এলসি খোলা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার মেট্রিক টন। খেজুর আমদানি হয়েছে ১১ হাজার মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে আমদানির পরিমাণ ছিল ৪ হাজার মেট্রিক টন।


ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে খুচরা বাজারে ডিমের দাম ৭ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৭ থেকে ৫০ টাকায়। একই সময়ে ব্রয়লার মুরগির দাম ২ দশমিক ৬৩ শতাংশ কমে প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় নেমেছে।


বড় দানার মসুর ডালের দাম গত এক মাসে ২ দশমিক ৫৬ শতাংশ এবং গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৩২ শতাংশ কমেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি বড় দানার মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। মাঝারি দানার মসুর ডালের দামও গত বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে।


বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০৪ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ১ হাজার টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। চিনির দাম প্রতি কেজি ১১০ থেকে ১১৫ টাকা। সাধারণ মানের খেজুর মানভেদে প্রতি কেজি ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত এক মাসে এসব পণ্যের দামে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।


সভায় পোলট্রি খাতের প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে ডিম ও মুরগির উৎপাদন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। খামার পর্যায়ে ডিমের দাম প্রতি পিস সাড়ে ১১ টাকা থেকে কমে ১০ টাকার নিচে নেমেছে, যা উৎপাদন খরচের কাছাকাছি। খামারে রোগবালাইয়ের উল্লেখযোগ্য প্রকোপ না থাকায় উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা করছেন না তারা। তবে রমজানে সকালের নাশতার ধরনে পরিবর্তনের কারণে ডিমের চাহিদা কমতে পারে। ঈদের পর মুরগির চাহিদা বাড়লে বাজারদরে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিদ্যমান আমদানি নীতি অনুযায়ী, সরকারের বিশেষ অনুমতি ছাড়া ডিম ও মাংস আমদানি করা যায় না বলেও জানান তারা।


সভায় খেজুর আমদানির শুল্ক কাঠামো সহজ, স্বচ্ছ ও যৌক্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, মিসর, সৌদি আরব, ইরাক ও আলজেরিয়াসহ প্রায় এক ডজন দেশ থেকে বিভিন্ন জাত ও মানের খেজুর আমদানি করা হয়। পণ্যের গুণগত মান ও দামের পার্থক্যের কারণে একই ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতিতে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে আমদানিকারকদের জন্য সহজবোধ্য ও বাস্তবসম্মত শুল্কব্যবস্থা প্রয়োজন। শুল্ক নির্ধারণ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দায়িত্ব হলেও কার্যকর সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয় জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।


আলোচনায় খেজুরের প্রচলিত শুল্ক সুবিধা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ সুবিধা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট মূল্য ধরে শুল্কায়নের পরিবর্তে খেজুরের প্রকৃত গুণগত মান ও আমদানি মূল্যের ভিত্তিতে কর নির্ধারণের প্রস্তাব উঠে আসে।


আমদানিকারকেরা জানান, সাধারণ মানের খেজুরের প্রকৃত আমদানি মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শুল্কায়ন না হলে আমদানি ব্যয় বেড়ে যায়। এর সঙ্গে আঞ্চলিক পরিস্থিতি, বিকল্প পরিবহনপথের ব্যবহার, বাড়তি পরিবহন ব্যয় এবং এলসি খোলার জটিলতা যুক্ত হয়ে সরবরাহে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। উচ্চ করহারের কারণে সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় ফল আমদানির কর কাঠামো আরও সহনীয় করার দাবিও জানান আমদানিকারকেরা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।


ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও ছোলার দাম কিছুটা বাড়লেও মসুর ডালের দাম কমেছে। ছোলা ও মসুর ডাল আমদানিতে বর্তমানে শুল্ক ও কর নেই। তবে চিনি ও ফল আমদানির শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমন্বয় করা গেলে বাজারদর সহনীয় রাখতে সহায়ক হতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে স্থানীয় বাজারে তাজা ফলের দামও কিছুটা কমেছে বলে সভায় জানানো হয়।


সভায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


নিউজটি আপডেট করেছেন : স্টাফ রিপোর্টার, ডেস্ক-০৪

মন্তব্য (0)

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।