উদ্বোধনের পরদিনই অচল ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকার আধুনিক কসাইখানা, মরিচা ধরছে যন্ত্রপাতিতে
ঝিনাইদহে দক্ষ জনবলের অভাব ও অব্যবস্থাপনার কারণে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, গুনতে হচ্ছে বিদ্যুৎ বিল
- আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৬:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৬:৩৫:৩৩ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬ বার পঠিত
ছবি: প্রতিনিধি
ঝিনাইদহে ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক কসাইখানা উদ্বোধনের পরদিন থেকেই কার্যত বন্ধ রয়েছে। চালু না হওয়ায় পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, অন্যদিকে কোনো কার্যক্রম ছাড়াই প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে ঝিনাইদহ পৌরসভাকে। প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার অভাবে জনগণের অর্থে নির্মিত এই স্থাপনাটি কাজে আসছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
শহরের পবহাটি কলা হাটসংলগ্ন এলাকায় ৪৯ শতকের বেশি জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে আধুনিক এই কসাইখানা। গত ১৭ জুন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এর উদ্বোধন করেন। আধুনিক পদ্ধতিতে পশু জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসম্মত মাংস সরবরাহ নিশ্চিত করাই ছিল প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য।
তবে উদ্বোধনের পরও কসাইখানাটির কার্যক্রম চালু না হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় মূল্যবান যন্ত্রপাতিতে মরিচা ধরছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়মিত ব্যবহার না হলে এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। অথচ স্থাপনাটি চালু না থাকলেও প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিলের বোঝা বহন করতে হচ্ছে পৌরসভাকে।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহ পৌরসভার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ আলী খান বলেন, “আধুনিক কসাইখানা নির্মাণ করা হলেও এর কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দক্ষ জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি।”
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, কার্যকর পরিচালনব্যবস্থা ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা না গেলে এত বড় বিনিয়োগের সুফল পাওয়া কঠিন হবে।
এদিকে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি কেন এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি, তা নিয়ে সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন নগরবাসী।
জনগণের অর্থে নির্মিত এই আধুনিক কসাইখানা কবে নাগাদ চালু হবে, কারা এর পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন এবং অব্যবহৃত যন্ত্রপাতি রক্ষায় কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
উদ্বোধনই কি প্রকল্পের শেষ কথা, নাকি অবশেষে চালু হবে ১০ কোটি ৮২ লাখ টাকার এই আধুনিক কসাইখানা? এখন সেই প্রশ্নই ঝিনাইদহবাসীর।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।