সরকারি অর্থায়নে গণমাধ্যম চালানোর পরিকল্পনা, চেক প্রজাতন্ত্রে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
টেলিভিশন ও রেডিওর লাইসেন্স ফি তুলে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব ঘিরে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
- আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ ১১:৫৯:০৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ১১:৫৯:০৭ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৮ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
চেক প্রজাতন্ত্রে রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত টেলিভিশন ও রেডিওর অর্থায়নব্যবস্থা পরিবর্তনের সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। তাঁদের আশঙ্কা, প্রস্তাবটি কার্যকর হলে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর সরকারের রাজনৈতিক প্রভাব বাড়তে পারে এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) রাজধানী প্রাগের ওল্ড টাউন স্কয়ারে জড়ো হয়ে বিক্ষোভকারীরা প্রস্তাবিত আইন প্রত্যাহারের দাবি জানান। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পরিবারগুলোর কাছ থেকে নেওয়া নিয়মিত লাইসেন্স ফি বাতিল করে সরকারি টেলিভিশন ও রেডিওর ব্যয় রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে মেটানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এর আগে শনিবার গভীর রাতে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বিরল এক ভোটাভুটির মাধ্যমে বিলটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া অনুমোদিত হয়। ক্ষমতাসীন জোটের বিরুদ্ধে বিলটি দ্রুত উত্থাপন করে বিরোধী দলগুলোর বিতর্কের সুযোগ সীমিত করার অভিযোগ উঠেছে। তবে আইনটি কার্যকর করতে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।
প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট বিলটি উত্থাপন করেছে। জোটে দুটি কট্টর ডানপন্থি দলও রয়েছে। বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, প্রস্তাবটি আইনে পরিণত হলে তারা সাংবিধানিক আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করবে।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনে সরকারি টেলিভিশন ও রেডিওর অর্থায়ন প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী বছর থেকেই এই কাটছাঁট কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা পরিকল্পনাটি প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
প্রধানমন্ত্রী বাবিশের দাবি, এই উদ্যোগ গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের জন্য নয়; বরং অর্থায়নব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা এবং ব্যয় কমানোর লক্ষ্যেই প্রস্তাবটি করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের মতে, রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়লে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সমালোচকেরা চেক প্রজাতন্ত্রের প্রস্তাবিত পরিবর্তনের সঙ্গে হাঙ্গেরির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান ও স্লোভাকিয়ার প্রধানমন্ত্রী রবার্ট ফিকোর সরকারের গণমাধ্যমসংক্রান্ত পদক্ষেপের তুলনা করছেন।
এদিকে, সরকারি টেলিভিশন ও রেডিওর কর্মীরা আগামী ৩ নভেম্বর ধর্মঘট পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। শ্রমিক ইউনিয়ন, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, গির্জা এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সংস্থাসহ একাধিক পক্ষ এ কর্মসূচির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
আগামী ১৫ নভেম্বর প্রাগের লেতনা পার্কে আরও একটি সমাবেশ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ১৯৮৯ সালের কমিউনিস্টবিরোধী ‘ভেলভেট বিপ্লব’-এর বার্ষিকীর দুই দিন আগে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওই বিপ্লবের মাধ্যমে তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ায় চার দশকের বেশি সময় ধরে চলা কমিউনিস্ট শাসনের অবসান ঘটে।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।