আত্রাইয়ের ৪০০ বছরের পুরোনো মসজিদ ও মঠ, সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ
মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন দুটি রক্ষায় স্থানীয়দের দাবি, মঠ ভাঙা নিয়ে মতভেদ
- আপলোড সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৩:১৯:১৯ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৬-১০-২০২৬ ০৩:১৯:১৯ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ২৪ বার পঠিত
ছবি: সংগৃহীত
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ইসলামগাঁথী গ্রামে মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন তিন গম্বুজ মসজিদ ও প্রাচীন মঠ আজও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো বলে পরিচিত এ দুটি স্থাপনা যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে সৌন্দর্য হারাচ্ছে। এরই মধ্যে মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য মঠটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। ঐতিহাসিক স্থাপনা দুটি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় আট কিলোমিটার পূর্বে ঐতিহাসিক গুড় নদীর তীরে ইসলামগাঁথী গ্রাম অবস্থিত। উপজেলার বিশা ইউনিয়নের এ গ্রামে রয়েছে কারুকার্যখচিত তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি পুরোনো মসজিদ ও এর পাশে প্রায় ৪০ ফুট উঁচু একটি মঠ। মসজিদের স্থাপত্যে মোগল আমলের প্রভাব লক্ষ করা যায়। মঠটির গায়ে একসময় বিভিন্ন প্রাণীর ছবি খোদাই করা ছিল।
স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়, একসময় গ্রামটিতে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল নৌকা। সে সময়েই মসজিদ ও মঠ নির্মিত হয় বলে ধারণা করা হয়। অতীতে মঠটিকে ঘিরে বিভিন্ন মানত ও ধর্মীয় আচার প্রচলিত ছিল। প্রতি বছর মহররমের ১০ তারিখ আশুরায় দূরদূরান্ত থেকে লোকজন সেখানে আসতেন। তবে সময়ের পরিবর্তনে এসব প্রথা এখন প্রায় বিলুপ্ত।
মসজিদ ও মঠের নির্মাণকাল সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিরাও স্থাপনা দুটির সঠিক বয়স বা প্রতিষ্ঠার সাল জানাতে পারেননি। আত্রাই কলকাকলী মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদুর রহমান জানান, তাঁর দাদা ১৯৮০ সালে ১০৩ বছর বয়সে মারা যান। তিনিও মসজিদ ও মঠের নির্মাণকাল সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি। ঐতিহাসিক স্থাপনা দুটি সংস্কারে তিনি স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
স্থানীয় ইতিহাসের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ১৫৭৬ খ্রিষ্টাব্দে মোগল শাসনামলে ইসলাম খাঁ নামে কোনো এক ব্যক্তি এ অঞ্চলের শাসনকার্যে নিয়োজিত ছিলেন। ইসলামগাঁথী ও ইসলামপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের নাম তাঁর নামের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হয়। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত এ ধারণা থেকেই তাঁর সময়কালে মসজিদ ও মঠ নির্মিত হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করা হয়। তবে এ বিষয়ে নিশ্চিত ঐতিহাসিক প্রমাণের উল্লেখ নেই।
এসএ ও আরএস খতিয়ান অনুযায়ী, ছয় শতক জমির ওপর স্থাপনা দুটি অবস্থিত। দীর্ঘদিনের অবহেলায় মঠের গায়ে খোদাই করা অনেক নকশা মুছে গেছে। অন্যদিকে, মসজিদ সম্প্রসারণের জন্য মঠটি ভেঙে ফেলার পক্ষে রয়েছেন স্থানীয় একটি পক্ষ। অপর পক্ষ ঐতিহাসিক মঠটি অক্ষত রেখে মসজিদ অন্য স্থানে নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিদের মতে, যথাযথ সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থাপনা দুটি এলাকার ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তাই মসজিদ ও মঠের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো অক্ষত রাখার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।