জ্বালানি খাত এখন অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে: অর্থমন্ত্রী
গ্যাস অনুসন্ধানে ১৫০টি কূপ খনন ও নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা
- আপলোড সময় : ১৯-১০-২০২৬ ১০:৪৯:৪১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ১৯-১০-২০২৬ ১০:৪৯:৪১ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ১৬ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
বিশ্ব অর্থনীতির সংকট ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলা, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানো, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রণোদনা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে অর্থনীতি স্থিতিশীল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত ‘সাসটেইনেবল পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জি: ড্রাইভিং ইনভেস্টমেন্ট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের কাছ থেকে পাওয়া রাজস্ব ঘাটতি, ব্যাংক খাতের বিশৃঙ্খলা ও বিদেশে অর্থপাচারের মতো সংকট কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করছে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে পূর্ণাঙ্গ কর অব্যাহতি ও প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। বাসাবাড়ি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরপ্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি এসব প্যানেল থেকে উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্বাভাবিক দরের চেয়ে বেশি মূল্যে কেনার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে সমুদ্র ও স্থলভাগে অনুসন্ধান কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আমির খসরু। চুক্তিভিত্তিক অনুসন্ধানের পাশাপাশি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে ১৫০টি কূপ খননের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
গ্যাস সংকট নিরসনে তিন থেকে চারটি নতুন ভাসমান সংরক্ষণ ও পুনর্গ্যাসীকরণ টার্মিনাল (এফএসআরইউ) চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কোরিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি বিনিয়োগকারীরা যুক্ত হচ্ছেন বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, মাতারবাড়ীর পাশাপাশি খুলনার কাছে ২০ মিটার গভীরতার একটি নতুন স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। সেখানে বড় জাহাজ থেকে সরাসরি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খালাসের সুবিধাসহ আধুনিক টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে দেশে একটি জ্বালানি হাব গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আমির খসরু বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) নীতি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের জন্য পৃথক দুটি বিভাগে ভাগ করা হচ্ছে। এতে নীতি প্রণয়নে স্বার্থের সংঘাত ও দুর্নীতি কমবে বলে আশা করছে সরকার। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাত ও পুঁজিবাজার পুনর্গঠন এবং ব্যবসার খরচ কমাতে নিয়ন্ত্রণমূলক বিধিনিষেধ শিথিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী জানান, হংকংয়ের পুঁজিবাজারে বাংলাদেশের জন্য একটি পৃথক ইকুইটি ফান্ড গঠন করা হচ্ছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটের শীর্ষ বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে দেশের পুঁজিবাজার ও বন্ড খাতে বড় অঙ্কের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
একটি যৌক্তিক সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাত স্থিতিশীল হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, অর্থনীতি স্থিতিশীল হলে তা স্বাভাবিক গতিতে ফিরবে এবং পরবর্তী সময়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।
অনুষ্ঠানে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তামিম, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. নাজনীন আহমেদ এবং বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশনের (এফবিসিসিআই) প্রশাসক ফজলুল হক। এ ছাড়া এফআইসিসিআইয়ের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, অর্থনীতিবিদ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।