বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের
পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও সরবরাহ সংকটে জ্বালানি, খাদ্য ও ধাতুর দাম বাড়ার আশঙ্কা
- আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০১:০০:৩১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ০১:০০:৩১ অপরাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ৩০ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাত ও সরবরাহ সংকটের কারণে ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম ২৩ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি, পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন, কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য সরবরাহে সমস্যা এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বেড়ে যাওয়াকে এর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ কমোডিটি মার্কেটস আউটলুক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের প্রভাবে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, খাদ্যপণ্য ও ধাতুর বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে এবং রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ৩২ শতাংশ বাড়তে পারে। এতে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে। তেলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় চলতি বছর ব্রেন্ট ক্রুডের গড় দাম ব্যারেলপ্রতি ৯২ ডলারে দাঁড়াতে পারে। একই সময়ে বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমতে পারে, যা ২০২০ সালের বৈশ্বিক মন্দা বাদ দিলে চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় পতন হতে পারে।
খাদ্যপণ্যের বাজারেও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের কারণে কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য পরিবহনে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় ২০২৬ সালে খাদ্যপণ্যের দাম ১০ শতাংশের বেশি বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে আরও ৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। সব মিলিয়ে দুই বছরে খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ১৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক।
প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়া, শস্য পরিবহনে নতুন বাধা এবং ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে তীব্র এল নিনোর প্রভাব একসঙ্গে দেখা দিলে খাদ্যপণ্যের দাম পূর্বাভাসের চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে খাদ্যসংকট ও চরম দারিদ্র্য বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া ২০২৬ সালে সারের দাম ১৪ শতাংশ এবং ধাতুর দাম ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও তথ্যকেন্দ্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির কারণে অ্যালুমিনিয়াম, তামা ও টিনের চাহিদা বাড়ছে। অন্যদিকে, ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বাড়ায় স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুর দাম এ বছর ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৭ সালে বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে ৭ শতাংশ কমতে পারে। কিন্তু সংঘাত ও জলবায়ুজনিত সংকট অব্যাহত থাকলে খাদ্যপণ্যের দাম উচ্চ পর্যায়ে থেকে যেতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককে মুদ্রানীতি আরও কঠোর করতে হতে পারে।
বিশ্বব্যাংকের উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ আয়হান কোসে বলেছেন, জ্বালানির উচ্চমূল্য ও বাণিজ্যে বিঘ্নের কারণে মূল্যস্ফীতি, খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি দেশকে ইতোমধ্যে স্বল্প সুদের ঋণ ও অন্যান্য সহায়তা হিসেবে ৮৭০ কোটি ডলার দেওয়া হয়েছে।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।