বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে বড় উদ্যোগ, ৫ বছরে ২ লাখ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা
জাপানের সম্ভাব্য ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ, জ্বালানি সহায়তা, প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
- আপলোড সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১১:৪৫:১৭ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৯-১০-২০২৬ ১১:৪৫:১৭ পূর্বাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২৫ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
ঢাকা-টোকিও সম্পর্ক আরও গভীর করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের সঙ্গে আলোচনায় জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, রেল যোগাযোগ, গভীর সমুদ্রবন্দর ও শিল্প অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকের পর মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তারেক রহমান বলেন, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। আলোচনার লক্ষ্য হলো এই সম্পর্ককে বাংলাদেশের মানুষের জন্য বাস্তব ও দৃশ্যমান সুযোগে রূপ দেওয়া।
পাঁচ বছরে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগের সম্ভাবনা
প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে জাপানের বেসরকারি খাত থেকে ১ ট্রিলিয়ন ইয়েন বা প্রায় ৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ বিনিয়োগ বাস্তবায়িত হলে প্রায় দুই লাখ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, এ ধরনের বিনিয়োগ বাংলাদেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
এ ছাড়া জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে জাপানের ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় পাঁচ হাজার কোটি জাপানি ইয়েন বা প্রায় ৩২ কোটি মার্কিন ডলারের জরুরি আর্থিক সহায়তার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
প্রযুক্তি ও অবকাঠামো উন্নয়নে সহযোগিতা
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস, ইলেকট্রনিকস উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগ বাড়াতে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলেও সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল যোগাযোগ গড়ে তোলা এবং আধুনিক পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়টিও আলোচনায় আসে।
দুই দেশ বঙ্গোপসাগর শিল্প প্রবৃদ্ধি বলয় বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগ এগিয়ে নিতেও সম্মত হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান। এ উদ্যোগের আওতায় জ্বালানি, গভীর সমুদ্রবন্দর, শিল্প অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ইপিএ বাস্তবায়ন ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) দ্রুত বাস্তবায়ন এবং দুই দেশের অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে কাজ করতে মন্ত্রী পর্যায়ের যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাবও আলোচনায় এসেছে।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য জাপানের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসইভাবে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের ধারাবাহিক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয়
বাংলাদেশ ও জাপানের ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। দেশটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে।
জাপানের বন্ধুত্ব, আতিথেয়তা ও সহযোগিতার জন্য দেশটির সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পর তাঁর সরকার বিনিয়োগ, উদ্ভাবন, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং অর্থবহ কর্মসংস্থানের সুযোগের ওপর ভিত্তি করে অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের সরকারি সফরে রয়েছেন তারেক রহমান। মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকে দুই নেতা জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকের পর যৌথ বিবৃতি দেওয়া হয় এবং কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।