সাহেল অঞ্চলে প্রভাব বাড়াতে চীনের দিকে ঝুঁকছে টোগো
লোমে বন্দরকে পশ্চিম আফ্রিকার বাণিজ্য ও সরবরাহকেন্দ্র করতে চায় দুই দেশ
- আপলোড সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০৯:৩১:০১ অপরাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৭-১০-২০২৬ ০৯:৩১:০১ অপরাহ্ন
- ৩ মিনিট পড়ার সময়
- ২৭ বার পঠিত
সংগৃহীত ছবি
চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ টোগো। দেশটির বন্দর, পরিবহন অবকাঠামো ও শিল্প খাতকে কাজে লাগিয়ে লোমেকে পশ্চিম আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও সরবরাহকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বেইজিং ও লোমে। এর মাধ্যমে সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে আঞ্চলিক বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি আফ্রিকায় নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে চীনের জন্য।
টোগোর প্রেসিডেন্ট কাউন্সিলের প্রধান ফাউরে এসোজিমনা গ্নাসিংবে ৯ থেকে ১৬ অক্টোবর চীন সফর করেন। সফরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। ১৩ অক্টোবর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন যুগে অভিন্ন ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার অংশীদারত্বে উন্নীত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরদিনগুলোতে বাণিজ্য, অবকাঠামো, কৃষি, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়।
দুই দেশের যৌথ ঘোষণায় টোগোর শিল্পায়ন, কৃষির আধুনিকায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চীনের শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লোমে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিমানবন্দর ও বন্দর অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার কথা বলা হয়েছে। টোগোকে পশ্চিম আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যও এতে উঠে এসেছে।
টোগোর কৌশলগত গুরুত্বের অন্যতম ভিত্তি লোমে বন্দর। গিনি উপসাগরের উপকূলে অবস্থিত এই বন্দর পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। স্থলবেষ্টিত সাহেল অঞ্চলের দেশগুলোর জন্যও এটি সমুদ্রপথে পণ্য আনা-নেওয়ার বিকল্প প্রবেশদ্বার হতে পারে। বিশেষ করে নাইজার ও বেনিনের সীমান্ত বন্ধ থাকার কারণে আঞ্চলিক বাণিজ্যপথে যে পরিবর্তন এসেছে, তাতে টোগোর বন্দর ও স্থলপথের গুরুত্ব বেড়েছে।
বন্দরকেন্দ্রিক কার্যক্রমের পাশাপাশি টোগোর আদেতিকোপে শিল্প প্ল্যাটফর্মও দেশটির পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের অবকাঠামো পণ্য সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, শিল্প উৎপাদন এবং বিভিন্ন বাজারে পণ্য পুনর্বণ্টনের সুযোগ তৈরি করতে পারে। চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কাজে লাগিয়ে টোগো শুধু পণ্য পরিবহনের কেন্দ্র নয়, বরং আঞ্চলিক উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার অংশ হওয়ার সুযোগ খুঁজছে।
চীন ও টোগোর বাণিজ্যিক সম্পর্কও সম্প্রসারিত হয়েছে। টোগো ফার্স্টের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৫৫ শতাংশ বেশি। চীন টোগোর আমদানির প্রধান উৎস। দুই দেশের নতুন সহযোগিতার কাঠামোয় টোগোর কৃষিপণ্য, বিশেষ করে সয়াবিন চীনের বাজারে প্রবেশের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ও রয়েছে।
তবে এই অংশীদারত্বের বাস্তব সুফল নির্ভর করবে ঘোষিত উদ্যোগগুলো কতটা বাস্তবায়িত হয় তার ওপর। অবকাঠামো ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় শিল্পের বিকাশ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, কর্মসংস্থান এবং টোগোর উৎপাদকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। বিনিয়োগের শর্ত, অর্থায়ন ও প্রকল্প বাস্তবায়নের স্বচ্ছতাও এ ক্ষেত্রে বিবেচ্য।
চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের মধ্য দিয়ে টোগো একদিকে নিজস্ব অর্থনীতি ও আঞ্চলিক বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবে অবস্থান শক্তিশালী করতে চাইছে, অন্যদিকে সাহেল অঞ্চলের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিজের ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগাতে চাইছে। পরিকল্পনাগুলো সফল হলে লোমে বন্দর পশ্চিম আফ্রিকার বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থায় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নির্ভর করবে দুই দেশের ঘোষিত সহযোগিতা বাস্তবে কতটা অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনে তার ওপর।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।