সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড: ছয় প্রশ্নে জবাব চাইল ঢাকা
অপরাধের বিবরণ, রায়ের কপি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি ও মরদেহের অবস্থান জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষকে কূটনৈতিক চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ।
- আপলোড সময় : ২৫-১০-২০২৬ ১১:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন
- আপডেট সময় : ২৫-১০-২০২৬ ১১:৩৩:৫১ পূর্বাহ্ন
- ২ মিনিট পড়ার সময়
- ১৮ বার পঠিত
ছবি সংগৃহীত
মক্কায় দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বিস্তারিত তথ্য জানতে সৌদি আরবের কাছে ছয়টি প্রশ্ন তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। ১৯ অক্টোবর জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল থেকে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মক্কা শাখায় পাঠানো এক কূটনৈতিক চিঠিতে এসব তথ্য চাওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম আবদুল বাসির ও সুইটি আক্তার। গত ১৪ অক্টোবর মক্কা অঞ্চলে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৯ অক্টোবর সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক ফরিদ বিন সাদ আল সেহেরির সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি কূটনৈতিক চিঠিটি হস্তান্তর করেন।
চিঠিতে ছয়টি বিষয়ে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, দুই নাগরিকের বিরুদ্ধে কী ধরনের অপরাধের অভিযোগ ছিল, অপরাধ কখন ও কোথায় সংঘটিত হয়েছিল এবং তাঁদের কবে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সত্যায়িত রায়ের কপি, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পদ্ধতি এবং মৃত্যুদণ্ডের পর তাঁদের মরদেহ কোথায় রাখা হয়েছে, সে বিষয়েও জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ।
এ ছাড়া তদন্ত ও বিচার চলাকালে তাঁদের পক্ষে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছিল কি না এবং তাঁরা কেউ আইনি সহায়তা চেয়েছিলেন কি না, সে তথ্যও জানতে চাওয়া হয়েছে। মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানো হবে, নাকি সৌদি আরবেই দাফন করা হয়েছে, সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে কনস্যুলেট।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সৌদি কর্তৃপক্ষ নিয়মিত বাংলাদেশকে কারাবন্দী ও দণ্ডিত নাগরিকদের তালিকা পাঠালেও আগের তালিকায় এই দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি স্পষ্ট ছিল না। সেপ্টেম্বরের তালিকায় একজনের বিরুদ্ধে ব্যভিচার এবং অন্যজনের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তিসংক্রান্ত অপরাধের অভিযোগের কথা উল্লেখ ছিল। ফলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে তাঁদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ পায়নি বাংলাদেশ বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে মক্কার একটি মসজিদ কমপ্লেক্সে অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে পবিত্রতা লঙ্ঘনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছিল। আগের তালিকায় উল্লেখিত অভিযোগের সঙ্গে এই বিবৃতির সম্পর্ক কী, তা এখনো স্পষ্ট নয়। এ কারণে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের কনস্যুলার কর্মকর্তাদের মতে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বিষয়টি জানা থাকলে আইনি সহায়তা, আপিল ও কূটনৈতিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপের উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ থাকতে পারত। তবে মৃত্যুদণ্ডের পুরো প্রক্রিয়া এবং বিচার চলাকালে দুই নাগরিকের আইনি প্রতিনিধিত্ব সম্পর্কে বাংলাদেশ মিশনের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ এখনো কূটনৈতিক চিঠির জবাব দেয়নি। প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য তারা জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।